ডাকসু নির্বাচন

ছাত্রলীগের সহযোগিতার আশ্বাস অন্যরা বলছেন ‘লোক দেখানো’

ভোটের সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানোর চিন্তা

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সফল করতে শর্তহীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগসহ ১৪ দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। তবে তাদের এ আশ্বাসে অনাস্থা জানিয়ে বিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীনদের এ আশ্বাস ‘লোক দেখানো’। এদিকে, হলে নিরাপত্তা নিয়ে নানা সংগঠনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ডাকসু নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পাঠানোর চিন্তা চলছে। এই ভাবনার কথা জানানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে স্থাপনে নিজেদের এখতিয়ার না থাকার কথাও জানিয়েছেন এই নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনের সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন অধ্যাপক মাহফুজ।

অধ্যাপক মাহফুজ বলেন, এই প্রস্তাবটা আমরা গ্রহণ করলাম। আমরা বিষয়টা নির্দিষ্ট করার জন্যই তো আলোচনাগুলো করেছি সবার সঙ্গে।

গত সোমবার ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সব ছাত্র সংগঠনের প্রতি শর্তহীন সহযোগিতার আশ্বাস জানিয়ে নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। তবে ছাত্রদল ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন জোটের আশ্বাসে আস্থা রাখতে না পারলেও একে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, যেহেতু তারা এ ধরনের একটি আশ্বাস দিয়েছে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে তাদের সহাবস্থান ও সহযোগিতার আশ্বাস সাধারণত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। কয়েক দিন আগেও ক্যাম্পাসে আমাদের এক নেতার ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। তাই আশ্বাসে আস্থা রাখা যাচ্ছে না।

বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, ছাত্রলীগ ও তাদের মিত্রদের এ আশ্বাস ‘লোক দেখানো’। পাঁচটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ঢাবি শাখার সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী বলেন, ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রলীগ তাদের গত ১০ বছরের ছাত্র-স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডকে ধামাচাপা দিতে এ ধরনের লোক দেখানো আশ্বাস দিচ্ছে। হলগুলোয় তাদের দখলদারি এখনো বজায় আছে। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতিও বহাল আছে। এ অবস্থায় এই ধরনের আশ্বাস স্রেফ লোক দেখানো বুলি ছাড়া কিছু নয়।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, শর্তহীন সহযোগিতার এ আশ্বাস স্রেফ লোক দেখানো। যদি তা না হতো, তাহলে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সঙ্গে তারাও একমত পোষণ করতেন। আমরা হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ক্লাস ক্যাম্পেইনের সুযোগ দাবি করেছি। দুটি দাবিই যৌক্তিক। কিন্তু ছাত্রলীগই এর বিরোধিতা করেছে। ফলে তাদের এসব কথা আসলে বলার জন্য বলা। এতে আস্থা রাখারও কিছু নেই।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর হতে যাওয়া ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ডাকসুর সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি মেনে হবে নির্বাচন। বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করার দাবি থাকলেও ভোটকেন্দ্র হচ্ছে হলেই।

তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে ছাত্রদল, বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র ও সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

"