বন্ধ হচ্ছে বাসের ইজারা

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

শাহ্‌জাহান সাজু
ama ami

মহানগরীর যানবাহন বা বাসের প্রতিযোগিতা রোধে কন্ট্রাক সার্ভিস পদ্ধতি বা ইজারা পদ্ধতি বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের জাতীয় মহাসড়কে চালকদের জন্য সড়ক বিশ্রামগার তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। অন্য মহাসড়কেও জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জানা গেছে, ইজারা দেওয়ার পদ্ধতিতে দৈনিক ভিত্তিতে ইজারা নেওয়া ব্যক্তি প্রতি ট্রিপ (যাওয়া-আসা) হিসেবে বাস পরিচালনার আয়ের একটি অংশ মালিকের কাছে জমা দেন। এর অতিরিক্ত যা আয় হয়, তা ইজারা গ্রহীতার। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা গ্রহীতা ব্যক্তি বেশি ট্রিপ দিয়ে বেশি আয় করার জন্য প্রতিযোগিতা করে বেপরোয়া গাড়ি চলান। এ পাল্লাপাল্লির কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রীরা। এজন্য কন্ট্রাক সার্ভিস বা ইজারা পদ্ধতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সভায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশাসহ ছোট ছোট গাড়ি বিশেষ করে রেজিস্ট্র্রেশনবিহীন নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক বা অনুরূপ যানবাহন চলাচল বন্ধ করার পরও লেগুনা, থ্রি-হুইলার চলছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীসপুর, ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সড়ক বিশ্রামাগার তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। অন্যান্য মহাসড়কেও জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

সভায় ডিআইজি হাইওয়ে জানান, বিআরটিএর চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ অফিস থেকে বেশ কয়েকটি লেগুনার রুট পারমিট দেওয়া হয়েছে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে এর আওতা সারা বাংলাদেশ। গাজীপুর থেকেও ৫০০ লেগুনার রুট পারমিট দেওয়া হয়েছে। একটি জেলা থেকে লেগুনা সারা বাংলাদেশে চলাচলের অনুমতি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি আরো বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে। গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত ডাম্পিং স্টেশন নেই। কাজেই ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহারের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জায়গা নির্ধারণ করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় যে কোনো জায়গায় বাসে যাত্রী উঠানো বা নামানো হয়। রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে দাঁড়ায় এবং পেছনে আরো বাস দাঁড়ায়। ফলে রাস্তায় আরো যানজটের সৃষ্টি হয়।

সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪২তম সভায়, জাতীয় মহাসড়কে লেগুনা এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ইজিবাইক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে এ বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের অবৈধ অ্যাঙ্গেল, হুক, এবং বাম্পার অপসারণের কাজ চলমান রাখতে বলা হয়। এছাড়া পরিবহন খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে প্রাপ্য সুবিধাদি নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব বা অনুরোধপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই সভায়।

"