একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, শেষ হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর। মুক্তির যুদ্ধটা ৯ মাসের হলেও মুক্তির সংগ্রামটা ছিল ২৩ বছরের। ১৯৪৭ সালে অনেক প্রত্যাশার পাকিস্তান গঠিত হলেও আমাদের হতাশ করতে পশ্চিমারা বেশি সময় নেয়নি। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল অদ্ভুততম রাষ্ট্র পাকিস্তান। পশ্চিম আর পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল ১১০০ মাইল, কিন্তু মানসিক দূরত্ব ছিল অনতিক্রম্য। ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুতেই মিল ছিল না। ধর্ম যে পাকিস্তানকে এক সূত্রে গাঁথতে পারত, সেটাও পারল না পশ্চিমাদের প্রভুসুলভ মানসিকতায়। পূর্ব পাকিস্তানে মানুষ বেশি। তাই শাসনের অধিকারও তাদেরই থাকার কথা। পাকিস্তানে বাংলাভাষী মানুষ বেশি। তাই বাংলাই হওয়ার কথা রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মাথায় পশ্চিমারা আমাদের চেতনায়, আমাদের ভাষায় ছুরি মারল। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়ে দিলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

তাৎক্ষণিকভাবে কায়েদে আজমের মুখের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বলে দিয়েছিলেন না, না। এই ছোট্ট একটি শব্দেই লুকিয়ে ছিল স্বাধীনতার স্ফুলিঙ্গ। তখনো কেউ বুঝতে পারেননি, এই একটি প্রতিবাদ জ্বালিয়ে দিতে পারে বিপ্লবের আগুন। ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি পায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। আর সেই ২১ ফেব্রুয়ারিই যেন চূড়ান্ত গতি পায় মুক্তিসংগ্রাম। আরো স্পষ্ট হয়, ‘না’।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন নিছক একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। সে আন্দোলনেই রোপিত হয়েছিল ভাষাভিত্তিক জাতি গঠনের বীজ, ঘটেছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনার উন্মেষ। ধর্ম নয়, একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষার শুরুটা হয়েছিল সেদিন, যার সুন্দরতম পরিণতি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারদের আত্মসমর্পণে।

"