দুর্নীতি মামলা

বিমানের সাবেক কর্মকর্তাসহ ৫ জন কারাগারে

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কক্সবাজার প্রতিনিধি
ama ami

কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য জেনারেটর ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে আদালতের বিচারক খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং প্রকল্পের ঠিকাদার শাহাব উদ্দীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক ব্যবস্থাপক হাসান জহির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ। তবে মামলার আরেক আসামি কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মন্ডল আদালতে হাজির হননি।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য একটি ৩০০ কিভিএ জেনারেটর ক্রয়ের নিমিত্তে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার যোগসাজশ করে জেনারেটরটি ক্রয় না করেই ক্রয় দেখিয়ে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৬ জানুয়ারি দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চল-২-এর উপপরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার আসামি করা হয় প্রকল্পের ঠিকাদার মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং শাহাব উদ্দীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক ব্যবস্থাপক হাসান জহির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ। কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মন্ডল।

দুদক চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ওই মামলায় উচ্চ আদালত আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত আসামিদের চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন এবং নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আসামিদের পাঁচজন কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট নূরুল মোস্তফা মানিকের নেতৃত্বে ২০ জনের অধিক আইনজীবী শুনানি করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পিপি মো. আবদুর রহিম। তাকে সহযোগিতা করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

পিপি মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘মামলাটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আসামিদের জামিনের বিরুদ্ধে লড়েছি। আদালত সব কিছু বিবেচনা করে জামিন না মঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

"