উপজেলায় আ.লীগের প্রার্থী মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ

‘যাচাই-বাছাইয়ের পর নাম ঘোষণা হয়’

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এরই মধ্যে মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতা। তাদের দাবি, প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা মানা হচ্ছে না। এমনকি ‘সুযোগ-সুবিধা’র বিনিময়ে কিংবা এমপিদের কাছের

লোকদের প্রার্থী করতে কেন্দ্রে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও করেছেন অনেকে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে দলটির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. তাহের হোসেন।

অভিযোগপত্রে তাহের হোসেন লিখেছেন, ১৭ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করে মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করার কথা। এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করার কোনো সুযোগ নেই। কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে একটি নাম আসে কেন্দ্রে। দুটি থানা নিয়ে এই উপজেলা গঠিত। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের কমিটি না থাকায় এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান।

চিঠিতে তিনি আরো জানান, কেন্দ্র থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের নামের তালিকা চাওয়া হলে চেয়ারম্যান তার নামই কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাও আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এই সংবাদে কেরানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সর্বমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই উপজেলা থেকে আরো অনেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কোনো সভা না করে, তৃণমূলের কোনো মতামত না নিয়ে কেন্দ্রে এই তালিকা পাঠান তিনি। এই উপজেলা থেকে অভিযোগকারীরা ছাড়াও আলতাফ হোসেন বিপ্লব মনোনয়নপ্রত্যাশী।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ডজনের অধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেহেতু প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছন না, তাই অনেকেরই ধারণা, দলের টিকিট মানেই নিশ্চিত জয়। এ জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন দলীয় টিকিটের জন্য। এ নিয়ে অনেকটা অস্বস্তিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। কাকে রেখে কাকে মনোনয়ন দেবেন, তা নিয়ে ভাবনায় পড়েন অনেকেই।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, তৃণমূলে বৈঠক করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এমপি ও মন্ত্রীর কাছের লোক যদি তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয় হয়, তাহলে কী তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে? কে কার কাছের লোক এটা বিষয় না। আমাদের যে নিয়মনীতি আছে তা পূরণ করলেই হবে।

অন্যদিকে মনোনয়ন-বাণিজ্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে মনোনয়ন-বাণিজ্য হয় না। এটা বিএনপির মধ্যে হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের নামে অপপ্রচারের জন্য একটি অপশক্তি কাজ করছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগ হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ।

তবে অন্য নেতারা যাই বলুন না কেন, সতর্ক দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বর্তমান এমপিদের প্রভাব খাটিয়ে একক নাম পাঠানোর অভিযোগ আসতে পারে। এখন এককভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে যদি কোনো নাম বা তালিকা আসে, সে জন্য তো আমাদের মনোনয়ন বোর্ড আছে। কেউ কোনো অনিয়ম করল কি না, সেটা দেখার জন্য আমাদের এই বোর্ড। তৃণমূলের নামগুলো সঠিকভাবে আসছে কি না, সেটা দেখার জন্যই তো আমাদের এই মনোনয়ন বোর্ড। সঠিকভাবে নাম না এলে সঠিকভাবে কী করতে হবে, সেখানে সার্ভে রিপোর্টও আছে। সব মিলিয়ে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি। শুধু তৃণমূলের রিপোর্টের ওপর আমরা ভিত্তি করব না, কারণ তৃণমূলের রিপোর্টে যদি কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন হয়, সে অবস্থায় সার্ভে রিপোর্ট আমাদের কাজে দেবে।

"