বিএনপিকে আইনিভাবে মোকাবিলা করবে ইসি

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, বিএনপির পক্ষ থেকে করা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়া নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে নির্বাচন নিয়ে সংক্ষুব্ধ যে কেউ চাইলে আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ আইনিভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আছে সাংবিধানিক এ সংস্থা।

নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে। তাই এ নিয়ে বিএনপির আপিল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নেই আমরা। কিন্তু বিএনপি কমিশনের ওই দাবি মানতে নারাজ।’ দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে স্বচ্ছ দাবি করে ইসি তাদের শপথ ভেঙেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়; সারা বিশ্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে, ইসির সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, ৩০০ সংসদীয় আসনের ফল প্রত্যাখ্যান ও নির্বাচিতদের শপথ না নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার নজির সৃষ্টি হতে চলেছে। এমনকি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সব আসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা করায়ও নজির তৈরি হয়েছে। তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী ১০ম জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অনিয়ম হওয়ায় সর্বোচ্চ ৫০টির কম আসন থেকে অভিযোগ পড়েছিল; এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তবে সব নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সফলতা খুবই কম বলে জানান তারা।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করে। দলীয়ভাবে দলটি ২৫৯টি আসন পেয়েছে। আর শরিক ও বিরোধী জোটগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাসদ তিনটি, জেপি একটি, তরিকত ফেডারেশন একটি, বিকল্পধারা দুটি, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট আটটি এবং স্বতন্ত্র তিনটি।

বিএনপি ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিলমারা হয়েছে বলে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ৩ জানুয়ারি শপথ অনুষ্ঠানেও যোগ দেয়নি। এখন পর্যন্ত দল ও জোটের কেউ শপথও নেননি। উপরন্তু নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে গতকাল নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে দলটি।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের ট্রাইব্যুনালে যে কেউ যেতে পারেন। এটা নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কারণ নেই। কেননা ওই নির্বাচনের সামগ্রিক দিক নিয়ে আমরা স্বচ্ছ আছি। এর পরও কোনো দল বা জোট আইনি লড়াইয়ে নামেন, সেটা মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত।’

কমিশনের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে অনিয়মের বিচার চেয়ে আপিল করা হয়েছে ইসির গঠিত ট্রাইব্যুনালে। কারণ ওই নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি কী ভয়াবহ ছিল তা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ অবগত। তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রাইব্যুনালে যে অভিযোগ দিচ্ছি তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে যাচাই করলে ফল আমাদের অনুকূলে আসবে। অনিয়মে ভরা নির্বাচন নিয়ে ইসির উদ্বেগ না থাকার কারণ হচ্ছে, তারা পক্ষপাতদুষ্ট ও একচোখা নীতিতে বিশ্বাসী।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা মিহির সরোয়ার মোর্শেদ বলেন, যদি সামগ্রিক ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ট্রাইব্যুনালে গিয়ে থাকে; তাহলে দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে ঘটনাটি নজিরবিহীন। তবে এখানে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে রায় আসার নজির খুবই কম। কারণ অতীতে দেখা গেছে, একটি সংসদীয় আসনের একটি অভিযোগ একজন জেলা জজ নিষ্পত্তি করতে সময় নিয়েছিলেন প্রায় ৫ বছর। দেখা যায়, নতুন আরেকটি সংসদ নির্বাচন চলে এসেছিল। এসব কারণে ট্রাইব্যুনাল জেলা জজ থেকে বিভাগীয় জজ হয়ে এখন হাইকোর্টের বিচাপতির অধীনে চলে এসেছে।

"