ডাকসুর তফসিল আজ

সহাবস্থান ইস্যুতে সরগরম ক্যাম্পাস

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি
ama ami

বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে আজ। প্রায় তিন দশক পর আদালতের নির্দেশে ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ১১ মার্চ। সর্বশেষ এই নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। এদিকে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কোথায় হবে, তা নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে। আগের মতো হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ। মূলত এই দুই ইস্যু নিয়েই সংগঠনগুলো সরব রয়েছে ক্যাম্পাসে।

গতকাল রোববার ঢাবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (আজ) সকাল ১০টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণা করবেন ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. এস এম মাহফুজুর রহমান। একই দিনে নিজ নিজ হল কর্তৃপক্ষ হল সংসদ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আগামী ১১ মার্চ নির্বাচন হবে। ভোটের দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

এই নির্বাচনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের যুক্তি হলো আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগ একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটা বড় অন্তরায়। সেই কারণে হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি করছেন তারা। এ নিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট কর্মসূচিও পালন করছে।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন তিন মাস পেছানোসহ সাত দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রদল। কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি স্থায়ী সহাবস্থান থাকুক।

এদিকে গঠনতন্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে। কিন্তু গঠনতন্ত্রে ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থানের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। তবে নির্বাচন আয়োজনকে ঘিরে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় প্রচার-প্রচারণায় সব প্রার্থীর সমান অধিকারের বিষয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে।

ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্রের ৮(ই) ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি আবাসিক হলে একটি করে ভোটকেন্দ্র থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট হলের সদস্যরা শুধু সেই কেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন।

বাম ছাত্রসংগঠনগুলো বলছে, ভোটারের কাছে প্রার্থীদের পৌঁছানোর সমান সুযোগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। প্রতিটি হলেই ছাত্রলীগের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। অন্য কোনো সংগঠন তেমন কোনো কার্যক্রম চালাতে পারছে না।

নির্বাচন আয়োজনকে ঘিরে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে চা-চক্র বা আড্ডাও বসছে। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থী বা যারা ভোটার হবেন, তাদের গুরুত্ব বেড়েছে। অনেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ হয়ে আবাসন সংকট, ক্যান্টিনের খাবারের মান ও পরিবহন বা যাতায়াত সমস্যা নিয়েও কথা বলছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে টানতে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা কিংবা সমস্যা নিয়ে কথা বলায় এগিয়ে রয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোই।

তবে ছাত্রলীগ সেভাবে ভোটারদের কাছে এখনো যায়নি। হলগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরই বেশি ভরসা করছেন তারা। তবে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ সংগঠনগুলো তাদের সঙ্গে থাকবে বলে একমত হয়েছে। আজ তফসিল ঘোষণার পর বাইরের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পক্ষে টানতে কর্মসূচি শুরু করবে।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, হলেই ভোটকেন্দ্র হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হলগুলোকে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্র সংগঠনের দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে ভোট দিতে যেতে নিরাপদ মনে করছেন না। তারা মনে করছেন, হলে ভোট দিতে গেলে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। সেই জন্য হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। নির্বাচন তিন মাস পেছানোর ছাত্রদলের দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন। ঘোষিত দিন কিংবা ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচন চান তারা।

ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন নির্বাচনী উৎসবের মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে নির্বাচন পেছানো দাবি জানিয়েছে। এটা অযৌক্তিক। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কোথায় হবে, সেই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী একমত রয়েছে। এটা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। নিয়ম অনুযায়ী ভোট যেখানে হওয়ার কথা, সেখানেই হবে।

প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো যেসব দাবি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও সহাবস্থানের বিষয়ে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বলার এখতিয়ার তার নেই।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হবে। পরিবেশ পরিষদের বৈঠকে সহাবস্থানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। হল প্রাধ্যক্ষদেরও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

"