ডিএনসিসির ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে হচ্ছে ‘জল নিসর্গ’

লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্যের উপস্থিতি সমন্বয় করে তা সংরক্ষণে জলাধার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। দ্বিগুণ মৌজাধীন এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জল নিসর্গ’। এখানে জলাধার ও এর তটসংলগ্ন পাড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি, পরিবেশ, কৃষি, জলজ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তাদের ভেতর দেশপ্রেম জাগ্রত করা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, জলাধার সংরক্ষণে জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ ডিপিপি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পে সংরক্ষিত জলাধার এলাকা থাকবে ২০ লাখ বর্গমিটার। ব্রিজ থাকবে ১৬০০ মিটার। ভায়া ডাক্ট ও সøুইসগেট থাকবে একটি করে। ফুটপাত থাকবে দুটি। ভূ-নৈসর্গিক কাজ ১২ হাজার মিটার ও মৎস্য চাষ এলাকা থাকবে ছয় লাখ বর্গমিটার।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, জলাধার সংরক্ষণে জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি ১১ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটিতে থাকছে, প্রকৃতি থেকে যুবকদের শিক্ষাদানের জন্য ক্যাম্পিং ব্যবস্থা। যেখানে যুবকরা এসে গবেষণা ও নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালাতে পারবে। এর জন্য ৩৬ দশমিক ৯ একর জায়গা রাখা হবে। দ্বিতীয় ধাপে থাকছে তিনটি বিষয়। এগুলো হলো, প্রকৃতির ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর, সম্মেলন কক্ষ ও প্রদর্শনী হল। পরেরটিতে থাকবে মাল্টি লেভেল কার পার্কিং। যেখানে দর্শনার্থীরা গাড়ি নিয়ে এলে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। এর জন্য ৬৫ দশমিক ৩৫ একর জমি রাখা হয়েছে। ৫৫০ একর জায়গা নিয়ে তৃতীয় ভাগে থাকছে পানি সংরক্ষণাগার। এখানে জলাশয় থাকবে। জলাশয়টি বৃষ্টির পানি ও সেচের পানি দিয়ে সব সময় ভরাট থাকবে। সেখানে দর্শনার্থীরা লেকের পাড়ে বসে শীতল পরশ উপভোগ করতে পারবেন। চতুর্থ ভাগটিকে দুই স্তরে রাখা হয়েছে। প্রথমত, ছোট গল্ফ ক্লাব নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয়টিতে থাকবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। সেখানে বৃষ্টির পানি ধারণ করে রাখা হবে। এখানে জায়গা থাকবে ২৩ দশমিক ২২ একর। ১৭ দশমিক ৪৪ একর জুড়ে থাকছে সৌর জলজ পার্ক ও সৌর জলজ ট্রিটমেন্ট প্ল

ান্ট। ছয় নম্বরে থাকছে, রেস্তোরাঁ ও ওয়াচ টাওয়ার। ভ্রমণপিপাসুরা টাওয়ারে উঠে পুরো জল নিসর্গটা দেখতে পারবেন। এখানে জায়গা রাখা হয়েছে ৯ দশমিক ৬৭ একর। সাত নম্বরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বহুমাত্রিক পার্ক তৈরি করা হবে। এর জায়গা রাখা হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ একর। আট নম্বরে ৫ দশমিক ৯৪ একর জায়গা নিয়ে নৌকা ক্লাব ও স্বাস্থ্য রঙ্গভূমি তৈরি করা হবে। ১০ নম্বরে ৯ দশমিক ৫৪ একর জায়গা নিয়ে গড়া হবে পাখিদের অভয়ারণ্য। যেখানে পাখি সংরক্ষণ করা হবে। ১১ নম্বরে থাকবে বোট ক্লাব ও এংগেলিং ক্লাব। দর্শনার্থীরা জলাশয়ে নৌকা ভ্রমণ করতে পারে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে সভা হবে। তবে যেহেতু এখনো প্রকল্পটি পাস হয়নি, এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

"