বাংলাদেশকে জাতিসংঘ

মিয়ানমার সীমান্ত খুলে দিন আমরা সহযোগিতা করব

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

মিয়ানমারে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার জেরে যেসব মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চাইছে তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মিয়ানমারে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে যেসব মানুষ আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছে তাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আমরা। গত শুক্রবার সংস্থাটি এক বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানায়।

এর আগে গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত আগেই বন্ধ ছিল, এখন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আর কোনো রাখাইন অধিবাসী বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে না। ওইদিন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূলত রাখাইন আর্মি ও মিয়ানমার আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের কারণে রোহিঙ্গাদের পর এবার বৌদ্ধ ও অন্য এথনিক গ্রুপ দেশ ছাড়ছে। তারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আসছে। তবে আমরা বর্ডার সিল করে দিয়েছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আগেই সীমান্ত খুলে দিয়েছি, ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছি, এখন অন্যরা তাদের সীমান্ত খুলুক।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনএইচসিআর বিবৃতিতে জানায়, মিয়ানমারে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে যেসব মানুষ আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছে তাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সব রকমের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আমরা।

মিয়ানমারে সম্প্র্রতি শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে দেশটিতে যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা এমন বিপর্যয় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানায়।

জাতিসংঘের সংস্থাটির মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেসিস বলেন, মিয়ানমারের ওসব রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সহিংসতার কারণে অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে দেশের ভেতরে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে কিংবা ভয়ে দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছেন অনেকে। আর এ কারণে যে মানবিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন।

আন্দ্রেজ মাহেসিস বাংলাদেশের উদ্দেশে বলেন, মিয়ানমারে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে যেসব মানুষ আশ্রয়ের জন্য যাচ্ছে তাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সব রকমের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আমরা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরু করলে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে আসা বৌদ্ধদের নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমার-সংলগ্ন সীমান্ত প্রায় বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

"