৮৭ উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের ৮৭ প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই নামগুলো ঘোষণা করেন। এদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আবার সিদ্ধান্ত বদল করল আওয়ামী লীগ। এখন এই পদে দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে না, যারা মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী মার্চে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ক্ষমতাসীন এই দলটি জানিয়েছিল, দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি তালিকা প্রকাশের প্রথম ধাপ। ১৯ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে। পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে আগামী ১০ মার্চ ৮৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে। দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৪৮০টিতে এবার ভোট হচ্ছে। প্রথম ধাপে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রজশাহী বিভাগের ৮৭টি উপজেলায় ভোট হবে। প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ১১ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১২ ফেব্রুয়ারি আর প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি। মার্চ মাসেই পরবর্তী চারটি ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ হবে ভোট। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন।

উপজেলাগুলোতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল থেকে সুপারিশ নিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিচ্ছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। তবে তৃণমূল থেকে নামের সুপারিশ নিয়ে এরই মধ্যে ৭০০ অভিযোগ এসেছে কেন্দ্রে।

এ বিষয়ে কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সেটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সব বিবেচনা করেই মনোনয়ন বোর্ড নমিনেশন দিয়েছে। সার্বিক শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সাধারণ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্যও প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেজন্য চেয়ারম্যানের মতো ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়ন ফরমও বিক্রি করা হয়। কিন্তু গতকাল ওবায়দুল কাদের জানান, ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্তই থাকছে। অর্থাৎ এই পদ দুটিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না, দলের যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন।

এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, যেহেতু সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। সুতরাং টাকা ফেরত দিয়ে দেব। প্রত্যেক প্রার্থীর টাকা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তৃণমূলের সুপারিশে প্রার্থী বাছাই করছে। প্রতিটি পদের জন্য তৃণমূল থেকে তিনটি করে নাম পাঠানো হচ্ছে। তার মধ্য থেকে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। তবে তৃণমূল থেকে আসা সুপারিশে অনেক জায়গায় সংসদ সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে একক নাম পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলে সেই ব্যবস্থা বদল করা হয়।

৮৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন :

রংপুর বিভাগ : পঞ্চগড় সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলিয়ায় কাজী মাহামুদুর রহমান, দেবীগঞ্জে হাসনাৎ জামান চৌধুরী (জর্জ), বোদায় মো. ফারুক আলম, আটোয়ারীতে মো. তৌহিদুল ইসলাম।

নীলফামারী সদর উপজেলায় শাহিদ মাহমুদ, ডোমারে তোফায়েল আহমেদ, ডিমলায় মো. তবিবুল ইসলাম, সৈয়দপুরে মো. মোখছেদুল মোমিন, কিশোরগঞ্জে মো. জাকির হোসেন বাবুল, জলঢাকায় মো. আনছার আলী (মিন্টু)।

লালমনিরহাট সদরে নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা, পাটগ্রামে রুহুল আমিন বাবুল, হাতীবান্ধায় লিয়াকত হোসেন, আদিতমারীতে রফিকুল আলম, কালীগঞ্জে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মোস্তফা জামান, উলিপুরে গোলাম হোসেন মন্টু, চিলমারীতে শওকত আলী সরকার, রৌমারীতে মজিবুর রহমান, ভূরুঙ্গামারীতে নুরুন্নবী চৌধুরী, রাজারহাটে আবু নুর মো. আক্তারুজ্জামান, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান, রাজিবপুরে শফিউল আলম, কুড়িগ্রাম সদরে আমান উদ্দিন আহমেদ।

রাজশাহী বিভাগ : জয়পুরহাট সদরে এস এম সোলায়মান আলী, পাঁচবিবিতে মনিরুল শহিদ মন্ডল, আক্কেলপুরে আবদুস সালাম আকন্দ, কালাইয়ে মিনফুজুর রহমান, ক্ষেতলালে মোস্তাকিম মন্ডল।

রাজশাহীর পবায় মুনসুর রহমান, তানোরে লুৎফর হায়দার রশীদ, পুঠিয়ায় জি এম হিরা বাচ্চু, দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম, বাঘায় নায়েব উদ্দীপ্ত, গোদাগাড়ীতে জাহাঙ্গীরনগর আলম, চারঘাটে ফকরুল ইসলাম, মোহনপুরে আবদুস সালাম, বাগমারায় অনিল কুমার সরকার।

নাটোর সদরে শরিফুল ইসলাম রমজান, গুরুদাসপুরে জাহিদুল ইসলাম, বাগাতিপাড়ায় সেকেন্দার রহমান, সিংড়ায় শফিকুল ইসলাম, বড়াইগ্রামে সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, লালপুরে ইসাহাক আলী।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় রিয়াজ উদ্দিন, চৌহালীতে ফারুক হোসেন, কাজীপুরে খলিলুর রহমান সিরাজী, রায়গঞ্জে ইমরুল হোসেন, উল্লাপাড়ায় শফিকুল ইসলাম, শাহজাদপুরে আজাদ রহমান, বেলকুচিতে আলী আকন্দ, তাড়াশে সঞ্জিত কুমার কর্মকার।

সিলেট বিভাগ : হবিগঞ্জ সদরে মশিউর রহমান শামীম, নবীগঞ্জে আলমগীর চৌধুরী, লাখাইয়ে মুশফিউল আলম আজাদ, বাহুবলে আবদুল হাই, মাধবপুরে আতিকুর রহমান, চুনারুঘাটে আবদুল কাদির লস্কর, আজমিরীগঞ্জে মর্ত্তুজা হাসান, বানিয়াচংয়ে আবুল কাশেম চৌধুরী।

সুনামগঞ্জ সদরে খায়রুল হুদা, জামালগঞ্জে ইউসুফ আল আজাদ, শাল্লায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, বিশ্বম্ভরপুরে রফিকুল ইসলাম তালুকদার, ধরমপাশায় শামীম আহমেদ মুরাদ, ছাতকে ফজলুর রহমান, দোয়ারাবাজারে আবদুর রহিম, দিরাই এ প্রদীপ রায়, তাহিরপুরে করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবলু, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আবুল কালাম।

ময়মনসিংহ বিভাগ : জামালপুর সদর উপজেলায় মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বকশীগঞ্জে এ কে এম সাইফুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জে মো. আবুল কালাম আজাদ, মেলান্দহে মো. কামরুজ্জামান, মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান বেলাল, সরিষাবাড়ীতে মো. গিয়াস উদ্দিন পাঠান, ইসলামপুরে এস এম জামাল আবদুল নাছের।

নেত্রকোনা সদরে মো. তফসির উদ্দিন খান, খালিয়াজুরীতে গোলাম সিরিয়ার জব্বার, দুর্গাপুরে মোহাম্মদ এমদাদুল হক খান, মোহনগঞ্জে মো. শহীদ ইকবাল, বারহাট্টায় মো. গোলাম রসুল তালুকদার, কলমাকান্দায় মো. আবদুল খালেক, মদনে মো. হাবিবুর রহমান, পূর্বধলায় জাহিদুল ইসলাম, কেন্দুয়ায় মো. নুরুল ইসলাম।

"