ক্রসফায়ারের হুমকি

গাজীপুরে দুই এএসআই প্রত্যাহার

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
ama ami

দুই থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা তিন যুবককে অপহরণ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকিও দেন ওই দুই কর্মকর্তা। এ ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায়। অপহরণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার কালিয়াকৈর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)

আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া অপহৃতরা হলেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার হান্নান সরকারের ছেলে রায়হান সরকার, একই এলাকার লতিফ সরকারের ছেলে লাবিব হোসেন ও একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে নওসাদ ইসলাম মাহফিন।

অপহৃত ও তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে রায়হান সরকার, লাবিব উদ্দিন, নওশাদ ইসলাম, তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তারা গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে যান। গ্যাস নেওয়ার সময় তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান গাড়ি থেকে নেমে পাশের দোকানে চা খেতে যান। গ্যাস নিয়ে তাদের গাড়িটি ফিলিং স্টেশন থেকে একটু এগিয়ে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানসহ তিন-চারজন লোক একটি মাইক্রো নিয়ে ওই যুবকদের গাড়ি গতিরোধ করে। পরে গাড়ি থেকে রায়হান মিয়া, লাবিব উদ্দিন ও নওশাদ ইসলাম ধরে নিয়ে যায়। এ সময় চা খেতে যাওয়া বাকি দুই বন্ধু রক্ষা পায়। পরে ওই তিন বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার দেওড়া নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ব্রিজের নিচে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিন বন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের দাবি করা টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বেশ কিছু সময় তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে দেন-দরবার হয়। একপর্যায়ে ওই দুই এএসআই তাদের জানান ১০ লাখ টাকা দিলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান মুঠোফোনে তাদের পরিবার ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। তখন কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে জানান। পরে দুই থানার সহযোগিতায় তাদের ওইদিন রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর থানায় এবং পরে রাত ১২টার দিকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন গাজীপুর পুলিশ লাইনে ও মির্জাপুর থানার মুসফিকুর রহমানকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নিজ নিজ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও একাধিক পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াকৈর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) মুসফিকুর রহমান একসময় গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় থেকে তাদের মধ্যে সখ্য সৃষ্টি হয়। ডিবিতে দায়িত্ব পালনের সময় বহু নিরিহ মানুষকে ধরে নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার অনেক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

উদ্ধার হওয়ায় রায়হান সরকার জানান, তারা পাঁচ বন্ধু বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার সময় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের ধরে নিয়ে যায়। পরে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। না দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমি মুক্তিপণ চাইনি, মুক্তিপণ চেয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। আমি তাদের সহযোগিতা করেছি। তাদের সহযোগিতা করাটাই আমার ভুল হয়েছে।’ অপর অভিযুক্ত মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমান বলেন, ‘কালিয়াকৈর থানার এএসআই মামুনের পরামর্শেই তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সে তাদের কাছে ৩০ লাখ টাকা চেয়েছে।’ গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বলেন, ঘটনাটি জানার পর কালিয়াকৈর থানার ওই এএসআইকে প্রত্যাহার করে গাজীপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জীত কুমার রায় বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মির্জাপুর থানার ওই এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার সামসুন্নাহার বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"