একুশ বাঙালি জাতিসত্তার স্মারক

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঙালি জাতিসত্তার স্মারক। বাঙালির আত্মপরিচয় ও আত্মানুসন্ধানের প্রধান প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ ধরেই এসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধ। মাতৃভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির একটি গৌরবময় অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধও বাঙালি জাতিসত্তার মূলমন্ত্র। একমাত্র বাঙালি জাতি ছাড়া পৃথিবীর কোনো জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি, এত প্রাণ যায়নি অন্য কোনো দেশের স্বাধীনতার জন্যও। এ দুটোই বাঙালির অহঙ্কার। মানুষের ভাষা ব্যবহারের সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে বাংলা ভাষার অবস্থান সপ্তম। আমাদের মাতৃভাষার জন্য এ এক বিশাল গৌরব। প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।

বেদনা ও গৌরবের আশ্চর্যজনক বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে দেশে দেশে। আমাদের রয়েছে গৌরবময় দুটো ঘটনা যার মধ্যে শোক ও বেদনা নিহিত। একটা ভাষা আন্দোলন, ১৯৫২ সালে যার বিপুল স্ফুরণ ও আত্মত্যাগ হয়েছিল। আর একটা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, ১৯৭১ সালে। বিপুল আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। মূলত একাত্তরের সূচনাই হয়েছিল বায়ান্নতে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব মানুষ ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগ দিয়েছিল।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরপরই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব রোপিত হয়েছিল। সেই রোপিত বীজের নাম ভাষা আন্দোলন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রতিবাদ উঠেছিল। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে এ সম্ভাবনাময় দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে এক ভূখন্ডের লড়াইয়ে লিপ্ত বাঙালি ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন বাংলাদেশের ভাষাপ্রাণ মানুষ সালাম, রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকেই। মূলত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনই বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের প্রকৃত ভিত্তি। এর রক্তাক্ত পথ বেয়েই বাঙালি স্বাধিকার অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।

১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসব্যাপী ভাষা আন্দোলনের পক্ষে গণসংযোগ ও আইন পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে তমদ্দুন মজলিস মতবিনিময় কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য তমদ্দুন মজলিস দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমর্থন আদায়ে মাঠে নেমেছিল। সে জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে তারা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির প্রতি সমর্থন আদায় করেছে।

 

"