ডিএনসিসির ২৬ পার্ক ও মাঠ

মেয়াদ শেষ জুনে : কাজের অগ্রগতি ৫ শতাংশ

গত ২ বছরে ৪টি পার্ক ও মাঠের উদ্বোধন করা হয়েছে

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্মুক্ত স্থানগুলোর আধুনিকায়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পে ২২ পার্ক ও ৪ মাঠের সংস্কার কাজ চলছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষের বিনোদনের জন্য এসব পার্ক ও মাঠের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের মার্চে শুরু হলেও ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুরে একটি খেলার মাঠ ও পার্কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন প্যানেল মেয়র উসমান গণি। প্রকল্পটির ২০১৯ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হলেও বর্তমানে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, জনবান্ধব পার্ক ও মাঠ তৈরির প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে দেরি হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্মুক্ত স্থানগুলোর আধুনিকায়ন উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে পার্ক-মাঠ ছাড়াও ১৫টি ফুটওভার ব্রিজ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যকরণ, ৭৩টি স্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও ৪টি কবরস্থানের উন্নয়ন। জানা গেছে, গড়ে প্রতিটি পার্ক সাজাতে ব্যয় হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা। তবে আয়তন বুঝে কম-বেশি ব্যয় করা হতে পারে। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে গত এক বছরে ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র ওসমান গণি ২৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের মধ্যে মাত্র ৪টির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের প্রথম দিকে শুরু করলেও পার্ক ও মাঠের ভিত্তিপ্রস্তর হয় ধীরগতিতে। কাজের উদ্বোধনের ৪টির মধ্যে গত বছরের ১৭ মে গুলশান-২ এ অবস্থিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক এবং বনানী বি ব্লক ১৮ নম্বর রোডে অবস্থিত বনানী উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন পার্কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। ১ কোটি ৪৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে তাজমহল রোড খেলার মাঠটি আধুনিকায়নের কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে এবং ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে তাজমহল পার্ক আধুনিকায়নের কাজ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি সংস্কার কাজ।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, পার্ক ও মাঠের কাজ শেষ হতে আরো অনেক সময় লাগবে। কারণ প্রতিটি মাঠ ও পার্ক নিয়ে গবেষণা চলছে বলে সময়টা বেশি লাগছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও এ প্রকল্পের পরিচালক তারিক বিন ইউসুফ বলেন, ডিএনসিসির উন্মুক্ত স্থানগুলোর আধুনিকায়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না। এই প্রকল্পের সময় আরো ২ বছর বাড়ানো হবে। তবে নির্ধারিত মেয়াদের আগে ৪টি পার্ক ও খেলার মাঠের সংস্কার কাজ শেষ হবে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, চলমান ৪টি প্রকল্প ছাড়া বাকি ২২টির ডিজাইনের কাজ চলছে। আমরা পার্ক ও মাঠ জনবান্ধব করতে আশপাশে মানুষের মতামত নিচ্ছি। তারা পার্ক ও মাঠ কীভাবে চাচ্ছে, কীভাবে তৈরি করলে তাদের জন্য সুবিধা সেজন্য তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। আর যেন অবৈধভাবে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। আর একইভাবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কাজ চলমান আছে।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, পার্কগুলোতে অধিক গাছ রোপণসহ পানি নিষ্কাশন, উন্নত টয়লেট স্থাপন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম ও খেলাধুলার পরে হালকা নাশতার জন্য পার্ক ও খেলার মাঠের পাশে থাকবে ক্যান্টিন। মাঠে পর্যাপ্ত ঘাস লাগানো ও সীমানা নির্দিষ্টকরণ থাকবে। বয়স্কদের খেলাধুলাসহ আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। সন্ধ্যার পর নির্বিঘেœ যাতায়াতের জন্য পার্কের ভেতর বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করা হবে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে পার্ক ও মাঠের সীমানা দেয়াল থাকবে না। পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষীও রাখা হবে প্রতিটি পার্ক ও খেলার মাঠে। পার্কের সৌন্দর্য রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শ্রীহীন হয়ে না যায় এজন্য নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া পার্কে থাকবে আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম। শুধু তা-ই নয়, প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য পার্ক ও খেলার মাঠে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে, সাইকেল ট্রেক, ফোয়ারা নির্মাণ, শিশু খেলনা স্থাপন, শরীরচর্চার জন্য যন্ত্রপাতি, মহিলাদের বসার স্থান, গেস্ট হাউস ও ঈদগাহ মিম্বার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের জন্য ৩ কোটি টাকা ব্যয় করবে সিটি করপোরেশন। আর ২৭৯ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেবে সরকার।

 

"