তামিম-তাণ্ডবে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রিন্স রাসেল

কালকের আগে কখনো বিপিএল ফাইনাল খেলার সৌভাগ্য হয়নি তামিম ইকবালের। নিজেদের মাটিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া হয়নি। শিরোপা জেতা তো দূরের কথা! কাল রাতে ৬১ বলে ১৪১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে এক ঢিলে তিন পাখি মারলেন তামিম। স্বাদ নিলেন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের; কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে জেতালেন বিপিএলের ট্রফি। সদ্য সমাপ্ত আসরে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদেরও হাহাকার দূর করলেন দেশসেরা ওপেনার।

ঢাকা ডায়নামাইটসের রাজত্ব উদ্ধারের স্বপ্নটা তাতেই ভেঙে চৌচির। ২০০ রানের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর আশা জাগিয়েও আকস্মিক ছন্দপতনে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ল সাকিবের দল। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৮২ রান তোলে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ২০১৬ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়ন হলো ১৭ রানে জিতে।

অথচ নবম ওভারের মধ্যে এক উইকেটে দলীয় সংগ্রহ এক শ ছাড়িয়ে হেলায়ফেলায় পাহাড় ডিঙানোর আভাস দিয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। সেটা ওই পর্যন্তই থেকে গেল। রনি তালুকদার ও উপুল থারাঙ্গা এনে দেওয়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সুন্দর সমাপ্তি টানতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল, সাকিব আল হাসান ও কাইরেন পোলার্ডরা।

ওয়াহাব রিয়াজ ও সাইফুদ্দিন-ঝড়ে ল-ভ- হয়ে যায় ঢাকার ব্যাটিং অর্ডার। ১০২ রানে দ্বিতীয় উইকেট জুটি বিচ্ছিন্ন হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং বিভাগ। ঢাকাকে ধসিয়ে দেওয়ার একক নায়ক কেউ নন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের পেসত্রয়ী ওয়াহাব রিয়াজ, থিসারা পেরেরা ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এলোমেলো করে দিয়েছেন সাকিবদের। ঢাকার আশা জাগানো ভাঙে থারাঙ্গার বিদায়ে। ফেরার আগে ২৭ বলে ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন লঙ্কান ওপেনার।

অবশ্য থারাঙ্গা না পারলেও অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন রনি তালুকদার। ৩৮ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ঢাকার চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। ম্যাচটা তখনই হেলে পড়ে কুমিল্লার দিকে। তবু একটা সংশয় ছিল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাসেল যে ব্যাট হাতে তখনো বাইশ গজেই আসেননি! ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার এসেছেন, কিন্তু কিছু করতে পারলেন না। ৪ রানে আউট হয়ে যান তিনি। সাকিব সাজঘরে ফিরেছেন ৩ রানে। পোলার্ড আশার প্রদীপ হয়ে জ্বললেও সেটা নিভে গেছে অল্পতেই। ১৫ বলে ১৩ রানে প্রস্থান হয় ঢাকার শেষ ভরসার। শেষ দিকে নুরুল হাসান (১৮) ও মাহমুদুল হাসান (১৫) অলৌকিক কিছু করার নিষ্ফল চেষ্টাই করেছেন।

কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম টস হেরে ব্যাট করতে নামা কুমিল্লার দর্শকদের মাতানোর একক দায়িত্বটা পালন করেছেন তামিম। সাকিব-রাসেলদের বেধড়ক পিটিয়ে বাঁ-হাতি ওপেনার তুলে নিয়েছেন ঝড়ো শতক। কিন্তু তার রাজসিক ইনিংসের শুরুটা ছিল দলের ধাক্কার মধ্য দিয়ে। ৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান এভিন লুইস। রিভিউ নিয়েও এলবিডব্লিউর ফাঁদ থেকে উঠতে পারেননি ক্যারিবিয়ান ওপেনার। বিপর্যয়টা এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে কাটিয়ে তোলেন তামিম। ৯৮ রানে দলের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান বিজয়। ফেরার আগে ৩০ বলে ২৪ রানের মন্থর গতির ইনিংস দেখিয়েছে তার ব্যাট। ২১ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকলেন ইমরুল কায়েস। দুজনের ঘাটতি একাই পুষিয়ে দিয়েছেন তামিম। ইমরুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার করলেন শিরোপা উৎসব। প্রথমজনের হাতে শিরোপা তুলে দেন আইসিসির সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর এবং বিসিবির কর্তারা। বিপিএল পেল তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক ইমরুলকে।

এক শ রানের মধ্যে তিন উইকেটের পতন হলেও কুমিল্লার রানের চাকা সচল রাখেন তামিম। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করার পর তামিম যেন অতিমানবই হয়ে উঠলেন। ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে ঢাকার কোনো বোলারকে কচুকাটা করেননি তিনি! ১০টি চার ও ১১টি ছক্কায় ঢাকার বোলারদের শাসন করলেন তামিম। এমন একটা রাজসিক ইনিংস খেলার পরও একটা আক্ষেপ সঙ্গী হলো তামিমের। মাত্র ৬ রানের জন্য ক্রিস গেইলকে টপকে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা গড়তে পারলেন না তামিম। টাইগার ওপেনারের সেই আফসোস মিলিয়ে গেছে শিরোপা আনন্দে। ব্যাট হাতে প্রলয় ঘটানোর পর দুর্দান্ত ফিল্ডিং, চোখে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মতো দুটি ক্যাচ নিয়েছেন তামিম। অনিবার্যভাবেই ফাইনালে সেরার স্বীকৃতি উঠেছে তার হাতে। অন্যদিকে আসর জুড়ে অলরাউন্ডিং পারফর্ম করা সাকিব হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা। কিন্তু শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা সাকিবের ব্যক্তিগত অর্জনকে মøান করে দিল।

 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস

১৯৯/৩ (২০ ওভার)

ঢাকা ডায়নামাইটস

১৮২/৯ (২০ ওভার)

 

"