মোদি-মোমেন বৈঠক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন আরো সুদৃঢ়

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন মোদি। গতকাল দিল্লিতে মোদির সঙ্গে এ বৈঠক হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বিগত কয়েক বছরে অনন্য উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে। নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সেই সম্পর্ককে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের বর্ণনা দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাক্ষাতের সময় তাদের মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন চুক্তি, অংশীদারিত্ব এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতির প্রশংসা করেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মনমোহন। মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফের নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান ড. মনমোহন সিং। পরে কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মার সঙ্গেও বৈঠক করেন মোমেন।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় এ কে আবদুল মোমেনকে অভিনন্দন জানান মোদি। একইসঙ্গে নিজের প্রথম সফর ভারতে করায় তার প্রশংসাও করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ড. মোমেন আজ ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও একান্ত বৈঠক করবেন। এরপর দুই দেশের যৌথ কমিশনের সভায় নেতৃত্ব দেবেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা আছে।

এর আগে চারদিনের সফরে বুধবার রাতে ভারতের নয়াদিল্লি পৌঁছান ড. এ কে আবদুল মোমেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। আবদুল মোমেন আজ ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) পঞ্চম বৈঠকে যোগ দিতে গত বুধবার রাতে নয়াদিল্লি পৌঁছান। এ সফরে তিনি উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জেসিসি বৈঠকে আবদুল মোমেন ও সুষমা স্বরাজ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

সফরে দুই দেশের মধ্যে দুর্নীতির তদন্ত, টেলিভিশন সম্প্রচার ও ওষুধ স্থাপনাসহ পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে ভারতে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আরো সহায়তা চাইবে।

 

"