ডাকসু নির্বাচন

ঢাবিতে উৎসবের আবহ

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি
ama ami

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সরব হয়ে উঠেছেন। এতে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকা-ের পরিবেশও লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে, প্রায় ৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রদল নেতারা উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিতে ক্যাম্পাসে আসেন। দীর্ঘ সময় পর ক্যাম্পাসে আসতে পেরে অনেকেই উচ্ছ্বসিত হন, মুঠোফোনে ছবিও তুলতে দেখা যায় অনেককে।

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে আসেন। তবে শীর্ষ চার নেতা উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকলেও বাকিরা বাইরে ছিলেন।

উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর ভিসি চত্বর, টিএসসি, চারুকলা হয়ে হেঁটে শাহবাগ যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ২০১০ সালে জানুয়ারি মাসে সর্বশেষ ছাত্রদল মিছিল ও সমাবেশ করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এরপর বিএনপির সহযোগী এই সংগঠনের আর কোনো মিছিল-সমাবেশ দেখা মেলেনি। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের আগে আবারও মিছিল করল সংগঠনটি।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করাসহ ৭ দফা দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল।

ছাত্রদলের স্মারকলিপি পাওয়ার পর উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের বলেছি যে, ডাকসুর জন্য নির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র রয়েছে এবং একটি আচরবিধি প্রণীত হয়েছে। ডাকসুর গঠনতন্ত্র এবং আচরণবিধি অনুসরণ করে ডাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচন হবে। গঠনতন্ত্রের বিধিবিধান এবং আচরণবিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কর্মকা- তাদের প্রক্রিয়া মোতাবেক পরিচালিত হবে। উগ্রপন্থী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং পরিবেশ পরিষদের বাইরের অন্য কোনো সংগঠনের কর্মতৎপরতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকবে না। তবে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, তারা যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে সবাই যতœশীল থাকে।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি পরিষদ রয়েছে, চিফ রিটার্নিং অফিসার এবং তার সঙ্গে রিটার্নিং অফিসাররা রয়েছেন। তারা এ বিষয়ে তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন। গঠনতন্ত্র এবং আচরণবিধি অনুসরণ করে তারা সব কর্মপ্রয়াস গ্রহণ করবেন। এটিই হলো আমাদের রীতি। তারাই এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন।

উপাচার্যের কাছে ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান, ডাকসু নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে করা, নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট নির্ধারিত বয়সসীমা (৩০ বছর) বাতিলসহ সাত দফা দাবি জানান তারা। স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের সাত দফা দাবির মধ্যে আরো আছে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা ও উপদেষ্টা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে এগুলোতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি, ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্যের ক্ষমতায় ভারসাম্য এনে যেকোনো সিদ্ধান্ত সভাপতি ও ছাত্র সংসদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা, আগের হামলা ও নির্যাতনগুলোর বিচার ইত্যাদি।

উপাচার্য কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য আমাদের দাবিগুলো আন্তরিকভাবে শুনেছেন এবং আমাদের দাবির যৌক্তিকতা এরই মধ্যে মেনে নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের যৌক্তিক দাবি প্রশাসন মেনে নেবে এবং সবার অংশগ্রহণে একটি কার্যকর ডাকসু নির্বাচন হবে।

তফসিলের আগে তিন মাস সহাবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সহাবস্থানের বিষয়টি এমন যে এটিকে যদি কার্যকর করতে হয় তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের দরকার। আজকে সহাবস্থান দিয়ে কালকে কিন্তু এটাকে কার্যকর বা স্থায়ী বলা যাবে না। ডাকসুকে কেন্দ্র করে সহাবস্থান নয়, আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি স্থায়ী সহাবস্থান থাকুক।

 

"