‘টাকার কুমির’ আবজালের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবরক্ষক আবজাল হোসেনের সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আবজালের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করার নির্দেশের আবেদন করা হয়। আদালত দুদকের আবেদন আমলে নিয়ে তার সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার কুমির বনে যাওয়া আবজাল হোসেনের ভাই ও শ্যালককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তারা তাতে সাড়া না দিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই পাঁচ কর্মচারীকে নোটিস দিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়। কিন্তু তারা উপস্থিত না হয়ে তিন সপ্তাহের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু সময় চেয়েছেন। তাই পরবর্তী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আবার সময় দিয়ে তলব করব।

প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর সব সম্পদের তথ্য চেয়ে আবজাল হোসেনকে নির্দেশ দিয়েছে দুদক। ৩০ হাজার টাকার বেতন পেলেও ঢাকার উত্তরায় আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রীর নামে বাড়ি আছে পাঁচটি। আরেকটি বাড়ি আছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। আর ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৪টি প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। দেশ-বিদেশে আছে বাড়ি-মার্কেটসহ অনেক সম্পদ। এসব সম্পদের বাজারমূল্য হাজার কোটি টাকারও বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবজাল হোসেন গত এক বছরে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ২৮ বারেরও বেশি সপরিবারে সফর করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পর্টার স্ট্রিট মিন্টুতে যে বাড়ি কিনেছেন, তার দাম দুই লাখ ডলারেরও বেশি।

এই অভিযোগে গত ১০ জানুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। আবজালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চলমান অভিযোগের তদন্ত করছেন দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলম।

এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি থেকে আবজালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

"