পুলিশের ওপর হামলা

নারায়ণগঞ্জ রণক্ষেত্র নিহত ১ : আহত ১৫

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
ama ami

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। নিহত আসিক একজন গার্মেন্ট কর্মী। অন্য আহতদের মধ্যে বাবুল নামে গুলিবিদ্ধ একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে উপজেলার চাঁনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ বাবুল কুমিল্লার বাইতোলা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের একটি দল উপজেলার মদনপুরের চাঁনপুর এলাকায় আসামি ধরতে যায়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানের সমর্থক ও মামলার আসামি দিপু ও সুজনকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে দিপু-সুজনের সহযোগীরা টেঁটা, বল্লম ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ফাঁকে আসামি দিপু ও সুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় খলিলুর রহমানের সমর্থকরা। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা আহতদের উদ্ধার করে এবং রিফাত ও নুরনবী নামের দুজনকে আটক করে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ, কনস্টেবল মনোয়ার, মোহনসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত বাবুল (২২) নামের এক যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, বাবুল নামের একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম জানান, গত ১৮ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমির হোসেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। ওই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে আসামিপক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, হামলায় পুলিশের সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে।

"