দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে : প্রধানমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার দিয়ে মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শুরু বৃহস্পতিবার

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল রোববার প্রথম কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সরকার উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমরা চাই দেশের সার্বিক উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীও অংশগ্রহণ করুক। এদিন সকালে স্বাধীনতাযুদ্ধে জীবনদানকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, নতুন সরকার গঠনের পর মাস না ঘুরতেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শুরু করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ২৩ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যাবেন বলে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে নতুন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে স্বাগত এবং বিদায়ী জনপ্রশাসন প্র?তিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেককে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠা?নের পর কয়েকজন সাংবাদিককে এই তথ্য জানান সচিব।

গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা শপথ নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী দায়িত্বে আছেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে মন্ত্রিপ?রিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্র?তিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালা?নি ও খ?নিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ম?হিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নিজের হাতে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দুই টার্মে সরকারের নেওয়া মেজর প্রজেক্টগুলো এ সরকারে আগামী পাঁচ বছরে সম্পন্ন করাই সরকারের লক্ষ্য। আমরা দেশকে অগ্রগতির পথে যতটুক এগিয়েছি, এখান থেকে পেছনে যাওয়ার সুযোগ নেই। আগামী দিনগুলোয় তৃণমূল থেকে উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, ‘যদিও কোনো দেশের পক্ষেই শতভাগ দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সরকারের একটা দায়িত্ব হলো এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা, যাতে এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এবং আমাদের সব সাফল্য মøান করে না দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। আগে দেশে টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা দেশে বারবার ঘটেছে। কিন্তু আমরা দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। প্রযুক্তির বদৌলতে এই সাফল্য এসেছে এবং এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা ভালো ফল। ভবিষ্যতে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনগুলোতে আমরা আরো ৫ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়ে আনব। একটা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কিন্তু যদি আক্রান্ত হই তবে আমাদের দেশকে রক্ষা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সরকার উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমরা চাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সশস্ত্র বাহিনীও অংশগ্রহণ করুক।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নিজাম উদ্দিন আহমদ, বিমানবাহিনীর প্রধান মার্শাল মশিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে স্বাধীনতাযুদ্ধে জীবনদানকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

"