চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জলসীমা বিস্তারের উদ্যোগ

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ama ami

রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং ক্রমবর্ধমান পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৭ নটিক্যাল মাইল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত জলসীমা বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কতর্ৃৃপক্ষ। অনুমোদন পেলে ওই প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের সীমানা সীতাকুন্ড এবং মীরসরাই উপকূল পেরিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া হয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর ফলে বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলো যেমন বন্দর চার্জ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে বছরে ৩০০ কোটি রাজস্ব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে পুরো জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা।

চট্টগ্রাম বন্দর ৪০০ বছরের পুরনো কিন্তু এটা আধুনিক বন্দর হিসাবে স্বীকৃতি পায় স্বাধীনতার পর। প্রথম পর্যায়ে মাত্র ৫ নটিক্যাল মাইল ছিল এর কর্মপরিধি। পরে আলফা, ব্রেভো এবং চার্লি নামে তিন ভাগে বিভক্ত করে পরিধি বাড়ানো হয় ৩১ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত। এ অবস্থায় বন্দরের সীমানা মহেশখালীর মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত করার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। এমনটি জানালেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান জলসীমা সাত নটিক্যাল মাইল। ২০১১ সালে আলফা, ব্রেভো এবং চার্লি নামে তিনটি অ্যাংকারেজে বিভক্ত করে বন্দরের এই সীমানা বাড়ানো হয়। প্রায় ৪০০ বছর আগে ৫ নটিক্যাল মাইল জলসীমা নিয়ে বন্দরটির যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান চাহিদা, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির কারণে এই সমুদ্র বন্দরের জলসীমা আবারও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি এর শিগগিরই এর নিরসন হবে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পণ্য খালাসে সহস্রাধিক জাহাজ আসে বন্দরে। সমুদ্র গভীরতা না থাকার কারণে সীমিত সংখ্যক জাহাজ ভিড়তে পারে মাত্র ১৬টি জেটিতে। বাকিগুলো অপেক্ষা করতে হয় বহির্নোঙরে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব মেরিন সাইন্সেস অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে কুতুবদিয়া হয়ে মহেশখালী পর্যন্ত সাগরে শত শত জাহাজের অবস্থান থাকলেও তারা কোনো চার্জ দেয় না। তবে পুরো এলাকা বন্দরের সীমানায় চলে আসলে বন্দরের রাজস্ব বাড়বে শত কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুরো এলাকা বন্দরের সীমানায় এলে বছরে ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে।

সচিব বলেন, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ঘিরে প্রচুর জাহাজ আসা শুরু হয়েছে। আর এমনিতেও পণ্যবাহী জাহাজ আসার পরিমাণ তো বাড়ছেই। সব মিলিয়ে বন্দরের সীমানা যদি বেড়ে যায় রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। এ অবস্থায় রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি জাহাজগুলোতে মনিটরিংয়ের বাড়ানোর তাগিদ বলে মনে করছেন বাংলাদেশে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট আহসানুল হক চৌধুরী।

বন্দরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সীমান্তের শেষ প্রান্তে বর্তমানে মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে এলএনজি স্টেশন। সে সঙ্গে সেখানে চলছে বন্দর নির্মাণের কাজও।

"