আওয়ামী লীগের জয়ের কারণ হিসাব দিয়ে দেখালেন জয়

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন পরিসংখ্যান দিয়ে তাদের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব নয়। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। বিপরীতে ভরাডুবি ঘটেছে বিএনপির, বেশির ভাগ আসনে তাদের প্রার্থী জামানত হারিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ তুলে বলেছে, প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় ব্যালট বাক্স আগেই ভরে রাখা হয়েছিল, আর তাদের ভোটারদের কেন্দ্রেই যেতে দেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ তুলে নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটও। এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গতকাল শনিবার নিজের ফেসবুক পাতায় এক পোস্টে জয় আওয়ামী লীগের বিজয় ও ঐক্যফ্রন্টের পরাজয়ের কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদেরও সমালোচনা করেন।

জয় লিখেছেন, নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের ‘বিদেশি প্রভুদের’ কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিং এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাচ্ছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।

জয় লিখেছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছে। এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে সম্ভব নয়। ভোট কেন্দ্রে বিএনপিকে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, তারা বলছে ভয়ভীতির কথা। কিন্তু যদি আমরা ধরেও নেই আওয়ামী লীগের বাইরের সব ভোট বিএনপি-জামায়াতের পক্ষেই যেত তাহলেও ২ কোটি ২০ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকত বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।

ভোটের হার নিয়ে জয়ে বলেন, তাদের প্রথম অভিযোগ ভোটার সংখ্যা ছিল অত্যাধিক, তার মানে ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে। এবার ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।

২০০১ সালে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭৫.৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেওয়ার হার সামান্য বেশি ছিল। কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।

তথ্য নিয়ে অপপ্রচার চলছে অভিযোগ করে জয় লিখেছেন, দ্বিতীয় অপপ্রচার হচ্ছে আওয়ামী লীগ না কি এবার ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের শরিকরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট। এই ৭২ শতাংশও আওয়ামী লীগের এর জন্য সর্বোচ্চ নয়। আগের নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭৩.২ শতাংশ ভোট। সেবার যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিশাল জয় পেয়েছিল। এবার নির্বাচনের আগে নিজের চালানোর জরিপেও জয় আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস দিয়েছিলেন তবে তার জরিপের চেয়ে বেশি আসনে জিতেছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ ওই জরিপ, যাতে ফল আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল।

জয় লিখেছেন, ২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য আমি জনমত জরিপ করাই। হার্ভার্ডে থাকতে আমি জনমত জরিপের ওপর পড়াশোনা করি। জরিপ করতে আমরা যাদের ব্যবহার করি তাদের বাছাই করার আগে আমি নিজে একাধিক গবেষণা সংগঠনের সঙ্গে বসে আলাপ করি। ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করি না কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা। তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।

"