দলের কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনা

অগ্নিপরীক্ষা দিয়েই আজকের অবস্থানে এসেছে আ.লীগ

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্নিপরীক্ষা দিয়েই আওয়ামী লীগ আজকের অবস্থানে এসেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়। গতকাল শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত, সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি বলেই জনগণ নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যা মামলা, দুর্নীতি এবং মানিলন্ডারিংসহ একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। জনগণ তাদের এসব তৎপরতা গ্রহণ করেনি।

অতীতের মতো সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনও বিএনপি বানচালের চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, ‘এবারও তাদের নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা সবাই দেখেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনও তারা বানচাল করার অপচেষ্টা করেছিল। ২০১৮-এর নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করত, তাহলে হয়তো তাদের ফলাফল আরো একটু ভালো হতে পারত।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা স্বর্ণযুগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে চক্রান্ত করে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা ভোট বেশি পেলাম কিন্তু সরকার গঠন করতে পারলাম না। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবনে যে দুর্বিষহ অবস্থা ছিল, সেটা আমরা জানি। সেটা নিয়ে আর আমার বেশি বলার প্রয়োজন নেই।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটগতভাবে জয়ী হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার গঠন করার কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে কিন্তু ভোটের হার ২০১৮ সালের নির্বাচনের থেকেও অনেক বেশি ছিল। আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে আমাদের যেটা লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফলটা যাতে পৌঁছাতে পারি, সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই মানুষের এই উপলব্ধিটা এসে গেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে তারা ভালো থাকে, তাদের জীবনমান উন্নত হয়। তাদের দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হতে হয় না। তারা শান্তিতে থাকতে পারে। তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, এটা তারা উপলব্ধি করতে পারে।’

নির্বাচন বানচালের সব ঘটনা লিপিবদ্ধ করা আছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা মাঠে-ঘাটে দেখেছেন, টেলিভিশনে দেখেছেন, কীভাবে তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনোমতে নির্বাচনটা যেন বানচাল করার জন্য। কিন্তু তা তারা পারে নাই। এখন বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষ তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদের দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে, তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে।’

এ সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াসহ তারেক রহমানের বিভিন্ন দুর্নীতির কথা তুলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল পলাতক আসামিকে দিয়ে রাজনীতি করতে গেলে সেখানে কী রেজাল্ট হয় সেটাই তারা পেয়েছে। তাও হতো না, যদি তারা নির্বাচনে যে প্রার্থী দিয়েছে, সেই প্রার্থী নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যটা না করত। তাহলে আরো ভালো ফল তারা করতে পারত।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সব সময় লক্ষ্য করি কীভাবে গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়। তারা একটু সুন্দর জীবন পাবেন, একটু উন্নত জীবন পাবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের জীবনমান যাতে উন্নত হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা প্রতিটি কর্মসূচি নিয়েছি।’

বক্তব্যের শুরুতে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বক্তব্য শেষে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পরে যৌথসভা শুরু হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৬ জুলাই গণভবনে যৌথসভা হয়েছিল।

"