সুপার ওভারে বাজিমাত চিটাগংয়ের

বিপিএলেও সুপার ওভার থ্রিলার

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রিন্স রাসেল

ম্যাড়মেড়ে ম্যাচ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে দৃশ্যপটে। পরশু দুই চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হয়েছিল নাটকীয়ভাবে। কিন্তু কাল খুলনা টাইটানস ও চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচটা হার মানিয়েছে নাটকীয়তাকেও। রীতিমতো থ্রিলার উপহার দিল লড়াইটা। মহানাটকীয় ম্যাচের মীমাংসা হলো সুপার ওভারের নখ কামড়ানো উত্তেজনায়।

ভাগ্যে শিকে ছিড়েনি খুলনা টাইটানসের। বিপিএলে টানা চতুর্থ ম্যাচে হারল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বহু রং ছড়ানো ম্যাচে সুপার ওভারে চিটাগং ভাইকিংস জিতল এক রানে। সুপার ওভারের শেষ বলে তিন রানের সমীকরণটা মেলাতে পারেনি খুলনা। অথচ ১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৩ বলে ৭ রান তুলে ফেলেছিলেন খুলনার দুই ব্যাটসম্যান কার্লোস ব্রাথওয়েট ও ডেউইড মালান। ফ্রাইলিংকের চতুর্থ বলে ব্রাথওয়েটের রান আউটে কপাল পোড়ে খুলনার। ওভারের পঞ্চম বলে ২ রান নিয়েও দলের হার ঠেকাতে পারেননি মালান ও পল স্টার্লিং। শেষ বলে ১ রান নিতে পারল খুলনা। তাতেই খুলল ম্যাচে গিঁট। তুমুল হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। সঙ্গে সঙ্গে বুনো উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে চিটাগং ভাইকিংস। তাদের জয়োচ্ছ্বাস হার মানিয়েছে কোনো টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলকে! নাহ, আসলে কোনো ট্রফি জেতেনি। চিটাগং ভাইকিংসের উল্লাস ইতিহাস গড়ার। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম সুপার ওভারের ম্যাচটা যে তারাই জিতল!

চিটাগং ভাইকিংসের উদ্যাপনের মধ্যমণি ফ্রাইলিংক। তার অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়েই যে হারতে বসা ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে খুলনার সমান স্কোরবোর্ডে ১৫১ রান করে ফেলে চিটাগং। ম্যাচ টাই। যেটা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছিল তাদের জন্য। জয়ের জন্য আরিফুল হকের শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার ছিল চিটাগং ভাইকিংসের।

প্রথম ৩ বলের একটিতে ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান নাঈম ইসলাম। ফ্রাইলিংকের সামনে বাকি ৩ বলে ১৩ রানের কঠিন সমীকরণ। স্নায়ুচাপটা ধরে রাখলেন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার। পরপর দুই বলে হাঁকালেন ছক্কা। শেষ বলে এক রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে গেলেন ফ্রাইলিংক। ম্যাচ টাই! এ যেন সাজানো কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য! শেষ দৃশ্যে সুপার ওভার যুদ্ধ। যে দৃশ্যের প্রথমভাগে শুরুর ৩ বলে ৯ রান করেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও ফ্রাইলিংক। চতুর্থ বলে ম্যাচে দ্বিতীয়বার সাজঘরে ফেরেন ফ্রাইলিংক। জুনায়েদ খানের পরের ২ বলে ২ রান নিতে সক্ষম হয় চিটাগং।

এমন থ্রিলার ম্যাচটা শুরু হয়েছিল একটা চমক দিয়ে। মোহাম্মদ আশরাফুলকে বেঞ্চে বসিয়ে। চিটাগং ভাইকিংস ‘লিটল মাস্টার’র পরিবর্তে যাকে একাদশে জায়গা দিয়েছে, সেই ইয়াসির আলি ঠিকই সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান ৩৪ বলে ৪১ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দিয়েছেন চিটাগংকে। দুটি করে চার-ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটা। অথচ প্রথম তিন ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন আশরাফুল। বিপিএল পুনর্জন্মের ম্যাচে আউট হয়েছেন মাত্র ৩ রানে। সর্বশেষ ম্যাচে ২২ রান করলেও পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ব্যাট করতে পারেননি আশরাফুল। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছিল চিটাগং।

কাল অবশ্য দলকে তেমন পরিস্থিতিতে ফেলেননি ইয়াসির। সাজঘরে ফেরার আগে দলকে ঠিকই কক্ষপথে রেখে গেছেন তিনি। ইয়াসির যখন আউট হলেন তখন চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দরকার ছিল ৪৫ বলে ৬৬ রান। ১৫ বলে ১৫ রান করে দলের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচটা ফসকে যায় চিটাগংয়ের হাত থেকে। মুশফিক, সিকান্দার রাজা, মোসাদ্দেক হোসেনের মতো ব্যাটসম্যানরা থাকতেও ম্যাচটা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে ওঠে তাদের জন্য। মেহেদী ও ফ্রাইলিংক শেষ ওভারে ৩টি ছক্কা না মারলে চিটাগংয়ের হারটা নির্ঘাত ছিল। ১৩ বলে ২৩ রানে আউট হন ফ্রাইলিংক। মোসাদ্দেক করলেন ১২ বলে ১২ রান। ওপেনার শাহজাদ ১০ ও ক্যামেরন ডেলপোর্ট আউট হয়েছেন ১৭ রানে। ২৬ বলে ২ ছয় ও ১ চারে দ্বিতীয় দলীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রানে আউট হয়েছেন মুশফিক।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা খুলনা টাইটানসের শুরুটা একেবারে মন্দ ছিল না। প্রথম ১৪ বলে বিনা উইকেটে ৩১ রান তুলে ফেলে তারা। কিন্তু উড়ন্ত সূচনা যে দুজন এনে দিয়েছেন সেই পল স্টার্লি ও জুনায়েদ সিদ্দিকি আউট হয়ে গেলেন ১০ রানের ব্যবধানে। স্টার্লিং ১৮ ও ২০ রানে আউট হয়েছেন জুনায়েদ। আচমকা ধসের শঙ্কা এড়াতে ডেউইড মালান ও মাহমুদউল্লাহর ঘুমপাড়ানি ব্যাটিং করলেন দীর্ঘ সময় নিয়ে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৭৭ রান করেন এ যুগল। এই জুটির ওপর দাঁড়িয়ে কোনোরকম দলীয় সংগ্রহ ১৫০ ছাড়িয়েছে খুলনা।

"