স্ত্রী হত্যা

গাজীপুরে লাশ গুমের অভিযোগে স্বামীসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

গাজীপুর প্রতিনিধি
ama ami

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভাওরাইদ এলাকায় স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে গুমের ঘটনায় দুই সহযোগীসহ স্বামী শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব-১ সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব এ তথ্য জানায়। গ্রেফতারকৃতরা হলো স্বামী জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানা ম-লপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়া (২৮) এবং লাশ গুমের সহযোগী কুড়িগ্রাম বাজিবপুর থানার মদনের চর এলাকার মো. খোকন মিয়া (২২) ও গাইবান্ধার সদরের চিথুলিয়া জিগু এলাকার মো. মুকুল মিয়া (২৫)।

র‌্যাব জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শাহজাহান মিয়া গত ৩ জানুয়ারি সকালে ভাওরাইদ উত্তরপাড়া এলাকায় স্ত্রী আফরোজা বেগমকে (২৬) শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর তার বন্ধু খোকন এবং মুকুলের সহায়তায় বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম করে। ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১, ঢাকার উত্তরার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব আরো জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাহান জানিয়েছে ছোটবেলা তার বাবা মারা যাওয়ার কারণে সে ও তার মা জীবিকা নির্বাহের জন্য গাজীপুর চলে আসে। গাজীপুরে প্রথমে রিকশা সে চালাত এবং পরে দীর্ঘদিন রাজমিস্ত্রির কাজ করেছে। বিগত আট বছর আগে তারেক জিয়া সুতার মিলে কাজ করার সময় ভিকটিম আফরোজার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তারা দুজন পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করে এবং তার দুলাভাই জবান আলীর বাসায় থাকা শুরু করে। ২০১৬ সালে তার স্ত্রী সৌদি আরব যায় এবং ৬ মাস আগে দেশে আসে। দেশে আসার পর তার স্ত্রী দুলাভাই জবান আলীর বাসায় থাকতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তারা ভাওরাইদ এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতে শুরু করে। শাহজাহান তার স্ত্রীর কাছে বিদেশ থেকে অর্জিত টাকার হিসাব চাইলে স্ত্রী তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়।

গত ৩ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে পূর্ব ঘটনার জের ধরে কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে মারামারি পর্যন্ত গড়ায়। একপর্যায়ে শাহজাহান স্ত্রী আফরোজাকে গলা টিপে হত্যা করে। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সে তার বন্ধু খোকন মিয়া ও মুকুলকে বিষয়টি অবগত করে এবং পরস্পর যোগসাজশে ৩ জানুয়ারি রাতে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেলে দেয়। সহযোগিতার জন্য খোকনকে ৪ হাজার ও মুকুলকে আড়াই হাজার টাকা দেয় শাহজাহান।

এদিকে মুকুল ও খোকন চিন্তা করে বিষয়টি যেকোনো সময় উদ্্ঘাটিত হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তারা ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হবে। তাই লাশ গুমের সহযোগিতার বিষয়টি গোপন করার জন্য মুকুল ও খোকন ৪ জানুয়ারি রাতে সেপটিক ট্যাংকে শাহজাহান স্ত্রীর লাশ গুম করার সময় দেখে ফেলার নাটক সাজায় এবং সবাইকে ডেকে লাশ উত্তোলন করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে শাহজাহান আত্মগোপনে চলে যায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।

"