আওয়ামী লীগের প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

সংরক্ষিত মহিলা আসনে থাকছে মহাচমক

বঞ্চিত জেলা অগ্রাধিকার পাচ্ছে

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও দলের জন্য নিবেদিতরা এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত মহিলা কোটায় এমপি পদের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। দলীয় সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভার মতো এখানেও থাকবে চমক নয়, মহাচমক। নবম ও দশম জাতীয় সংসদে যারা সংরক্ষিত মহিলা এমপি ছিলেন তাদের না রাখার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের। সেই অর্থে বলা যায়, পুরনো নয়; নতুন মুখ পাবে এবারের সংসদ। সূত্র মতে, সারা দেশের ৬৪ জেলা ও ৪৯১ উপজেলার মধ্যে বঞ্চিত অঞ্চলগুলো পাবে আওয়ামী লীগ থেকে মহিলা এমপি।

এদিকে, সংসদের সংরক্ষিত মহিলা কোটা পূরণ করা নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিয়মানুযায়ী, নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট জারি থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত কোটা পূরণের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কমিশন। আগামী ১৪ জানুয়ারি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে সংরক্ষিত মহিলা এমপি কোটাপূরণ সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করবে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। কারণ আগামী মার্চের মধ্যে এ নির্বাচন সম্পন্ন করার তাগিদ রয়েছে। কমিশনের এই প্রক্রিয়া মার্চের আগে শেষ হলে প্রথম সংসদেই সংরক্ষিত মহিলা এমপিদের দেখা যাবে। খবর আওয়ামী লীগ ও ইসির দায়িত্বশীল সূত্রের। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রের জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। আর ২ জানুয়ারি নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট জারি হয়। সংসদ সদস্য শপথ নেন ৩ জানুয়ারি।

এই প্রক্রিয়া শেষ না হতেই সংরক্ষিত মহিলা কোটা পূরণের দিকে নজর দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের শরিকরা। আসন সংখ্যানুপাতে আওয়ামী লীগ ২৬৬ হিসেবে সংরক্ষিত মহিলা এমপি পাবে ৪৩টি, এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) ৪টি, ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং অন্যান্য ২টি। তবে ঐক্যফ্রন্ট না এলে একটি বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পাবে। বর্তমান সংসদের মহিলা কোটা সংখ্যা ৫০টি। মহিলা কোটায় এমপি হতে এরই মধ্যে দলের নেত্রীরা দেনদরবার

শুরু করেছেন। ধরনা দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রভাবশালী নেতাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরে পড়তে আশপাশে ঘোরাফেরা করছেন অনেকে। তবে দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবার সংরক্ষিত কোটায় চমক থাকবে যা নতুন মন্ত্রিসভার মতোই বলা চলে। টানা দুই মেয়াদে কিংবা নবম ও দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা এমপি ছিলেন তাদের এবারের সংসদে নাও দেখা যেতে পারে। এবার নতুনদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে, বঞ্চিত জেলা-উপজেলাগুলো; যেখানের অনেক নিবেদিত কিন্তু দলের সুবিধার জায়গাতে উপেক্ষিত এমনদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে, অনেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে সংরক্ষিত কোটায় এমপি পদটি পেতে। নতুনদের মধ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, নায়িকা রোকেয়া প্রাচীর, অপু বিশ্বাস, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম (কৃক), মৌলভীবাজার থেকে সায়রা মহসীন, ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জোবায়দা হক অজান্তা ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি মুহাম্মদ ফারুক খানের মেনে নকান কানতারা খান। এছাড়া পুরনোদের মধ্যে অলোচনায় রয়েছেন যারা তাদের রাজপথের লড়াকু নেত্রী নবম জাতীয় সংসদের এমপি অপু উকিল, সাঈদা তারেক দিপ্তী, নেত্রী নাজমা বেগম, দশম জাতীয় সংসদের এমপি কেয়া চৌধুরী ও খালেদ মোশারফের মেয়ে মাহজাবিন খালেদ। তবে আলোচনায় যারাই থাকুক এবার বঞ্চিত জেলার বঞ্চিতরা বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এটা অনেকটা নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগের দলীয় একাধিক সূত্র।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার বলেন, এবার একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা পদে এমপি মনোনয়নে পুনরাবৃত্তির (রিপিটেশন) সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ নবম ও দশম জাতীয় সংসদে যারা এমপি ছিলেন এবার নেত্রী সম্ভাবত তাদের বাইরে কাউকে এ পদে মনোনয়নের কথা ভাবছেন। কারণ বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ক্ষেত্র বিশাল, দলের ত্যাগী ও উপেক্ষিতদের এবার সুযোগ দিতে পারেন তিনি; এমনটাই মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার জেলা পর্যায় থেকে মহিলা কোটায় এমপি নির্বাচনের জন্য বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। বলা যায়, নবম ও দশম জাতীয় সংসদে যেসব জেলা বাদ ছিল এমন জেলার নেত্রীদের ভাগ্য খুলবে, যোগ করেন আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী।

আর সাবেক সংরক্ষিত এমপি মাহজাবিন খালেদ বলেন, এবারের সংসদে আমাকে নেত্রী সংরক্ষিত কোটায় নির্বাচিত করবেন কি না তা একান্তই তারই এখতিয়ার। তবে আমি বলতে চাই, এবারের নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম এবং গত ৫ বছর সেভাবেই এলাকায় কাজ করেছি। তাই রাজপথের লড়াকু হিসেবে আমাকে নির্বাচন করলে তা অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

নবম সংসদের সংরক্ষিত এমপি অপু উকিল বলেন, আমার পরিবারের সদস্য এবার এমপি হয়েছেন। আমি রাজপথের মানুষ হিসেবে যদি নেত্রী বিবেচনা করেন তাহলে আমার নতুন সংসদে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অসিম কুমার উকিল এমপি হয়েছেন, এটাকে টানলে আমার সম্ভাবনার সুযোগ কতটুকু তা আপনিই বিবেচনা করুন, যোগ করেন মহিলা আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী ও নিবেদিত নেত্রী।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, সংসদের মহিলা কোটা পূরণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট জারি হয়। এ হিসেবে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এ পদ পূরণের আইনি নিদের্শনা রয়েছে। তিনি বলেন, এ উপলক্ষে আগামী ১৪ জানুয়ারি কমিশন সভা হবে, সেখানে সংসদের মহিলা পদ পূরণের সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত উত্থাপন করা হবে। কমিশন চাইলে সেদিনই তফসিল দিতে পারে, আবার দু-একদিন পরেই তফসিল ঘোষণা করতে পারে। কারণ মার্চের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার সদিচ্ছা রয়েছে কমিশনের, যোগ করেন প্রশাসন সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

"