সিইবিআরের প্রতিবেদন

সরকারের তদারকিতেই অর্থনৈতিক উন্নতি

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিকভাবে যে কয়েকটি দেশ অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছে তার অন্যতম বাংলাদেশ। সরকারের সর্বোচ্চ তদারকিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে যোগাযোগ অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি খাত কিংবা রফতানি খাতেও। এমন কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন নীতি, আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে বিশ্বের শীর্ষ ২৪ অর্থনীতির দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। এমন সম্ভাবনার সামনে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে দুর্বল আর্থিক খাত, ক্রমেই বেড়ে চলা শিক্ষিত বেকারত্বের হার আর নিয়ন্ত্রণহীন আয়বৈষম্য। যদিও রাজস্ব আদায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা গেলে আরো আগেই অর্জিত হবে উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিইবিআরের প্রতিবেদনে বলেছে, ১৪ বছরে ১৭ ধাপ এগিয়ে ২০৩৩ সালে বাংলাদেশ হবে শীর্ষ অর্থনীতির ২৪তম দেশ, এমনকি এ সময়ে অর্জিত হবে গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। যদিও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আরো আগেই লক্ষ্য পূরণ করবে বাংলাদেশ সেজন্য বাড়াতে হবে করদাতার সংখ্যা, নিশ্চিত করতে হবে দুর্নীতিমুক্ত সেবা খাত।

কার সিলেকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসলাম সেরনিয়াবাত বলেন, ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবাজ কিন্তু বেশি না। সব কিছু নিয়ন্ত্রণেই আছে। ব্যবসা করার মতো পরিবেশ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সব ব্যাংকের এমডিদের বলেছে ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসতে হবে। সরকারি ব্যাংক মানছে কিন্তু প্রাইভেট ব্যাংক এখনো মানছে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আয়বৈষম্য। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মূল দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে রেখে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিতেরও আহ্বান তাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, অংক কথা বলে। এখানেও অংকের ওপর ভিত্তি করেই কথাগুলো বলা হয়েছে। প্রত্যেকবার সাড়ে সাত ভাগ বা আট ভাগ করা কঠিন। কিন্তু এটি সম্ভব যদি আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারি। বাংলাদেশ এখন চরম বৈষম্যের দেশ। এখানে আয় ৫ শতাংশ মানুষের কাছে সীমাবদ্ধ থাকে।

২০০৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অর্থনীতির নানা সূচকের অগ্রগতি-অবনতি নিয়ে সিইবিআরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১৯৩টি দেশের বার্ষিক অবস্থান মূল্যায়ন করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক লিগ। সংস্থাটির সমীক্ষা বলছে, চলতি বছর হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর।

"