শহরের সুবিধা মিলবে গ্রামে

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নয়Ñ এমন ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি বলেছেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে তার নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। কারণ তিনি নিজে দুর্নীতি করবেন না; অন্যকেও এ কাজে ছাড় দেওয়া হবে না।

তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনে আগামী পাঁচ বছর দেশের অবকাঠামো খাতে উন্নয়নে চমক থাকবে। দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সব নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। গ্রামে মিলবে শহরের সুবিধা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

প্রথম মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়া চারবারের এই এমপি বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করলে দেশ সুষম উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে। বাংলাদেশ এখন অপার সম্ভাবনার দেশ। আমাদের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে। এ জনসংখ্যাকে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত করে জনসম্পদ হিসেবে ব্যবহার করলে ২০৪১ সালের আগেই আমরা সোনার বাংলায় পরিণত হব।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্যমুক্ত একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আমরা কাজ করব।

এক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই আমরা ব্যর্থ হতে পারি না।

নাইজেরিয়ার কথা উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরও দেশটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তারা সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং অনেক সম্পদ থাকলেও সমন্বিত এবং অব্যবস্থাপনা কাটাতে না পারলে আমরা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না। তাই আমার এবং আমাদের লক্ষ্য হবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমাদের কিছু সমস্যা থাকবে তাকে অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে।

আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করে দেশসেবার মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ একা পূর্ণাঙ্গ নয়। সবাইর প্রচেষ্টায় সফলতা আসে। কারণ প্রত্যেকের কিছু না কিছু সমস্যা থাকে, সেটা যার যার জায়গা থেকে শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে। আমার কোনো সমস্যা থাকলে আপনারা (কর্মকর্তা-কর্মচারী) ধরিয়ে দেবেন; যাতে আমি শোধরানোর সুযোগ পাই, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিদিন কোটি ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে। সেই সময় ঘণ্টাকে কাজে লাগাতে হবে। সবাইকে সময়নুবর্তিতার দিকে খেয়াল রেখে যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ আমাদের সবার লক্ষ্য উন্নত বাংলাদেশ গড়া।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনের ইশতেহার পূরণ করতে হবে। জনগণের ইচ্ছা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর; এটা সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।

মোঃ তাজুল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দশম জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দফতর-সংস্থা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

"