ফারিয়া-নুসরাতকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মিলেছে

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ডেমরা থেকে পুলিশ যে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে, তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নুসরাত ও ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। শিশু দুটির শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন মোস্তফাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোস্তফার স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করে গতকাল মঙ্গলবার ডেমরা থানায় নেওয়া হয়েছে। এ দিন দুপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালটির ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক নওশাদ মাহমুদ জানান, দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে তাদের হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। সেটা জানতে যাবতীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম বলেন, হত্যাকা-ের মূল সন্দেহভাজন মোস্তফার স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পলাতক মোস্তফাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তাকে ধরতে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, যে বাসায় শিশুদের লাশ পাওয়া গেছে, সেই বাসার গৃহকর্তা মোস্তফা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। ঘটনার পর থেকেই মোস্তফা পলাতক। তার স্ত্রীর কাছ থেকে জানা গেছে, মোস্তফা মাদকসেবী ছিল। তাকে পাওয়া গেলেই হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

গত সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকার শাহজালাল রোডের একটি বাসা থেকে নুসরাত জাহান (৪) এবং ফারিয়া আকতার দোলা (৪) নামে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা শাহজালাল রোডে টিনশেড ও পাকা ভবনের পৃথক দুটি বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, নুসরাতের বাম চোখের ওপর ও নাকে কালচে দাগ (আঘাতের চিহ্ন) রয়েছে। আর ফারিয়ার গলার ডানপাশের সামনের দিকে কালচে দাগ রয়েছে। তবে তাদের যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক ছিল।

নিহত দোলার চাচা রাশেদুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে দোলা ও নুসরাত খেলতে খেলতে হারিয়ে যায়। তাদের খুঁজতে এলাকা জুড়ে মাইকিং করা হয়। পাশাপাশি ফেসবুকেও ফোন নম্বর ও ছবি দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। মাইকিং শুনে এক যুবক জানান, স্থানীয় মোস্তফা দুপুরের পর শিশু দুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে গেছে। পরে ওই যুবকের তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফার খালাকে সঙ্গে নিয়ে তার ঘরে গিয়ে দুই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় মোস্তফা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে সে জন্য তার খালা বাইরে থেকে তালা দিয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। কিন্তু ততক্ষণে কৌশলে পালিয়ে যায় মোস্তফা।

"