মাশরাফি আগুনে পুড়ল কুমিল্লা

প্রকাশ | ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রিন্স রাসেল

ঝড় তোলার মতো অনেক ক্রিকেটারই ছিলেন ম্যাচে। কর্মব্যস্ত দিন হিসেবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পর্যাপ্ত দর্শকের উপস্থিতিও ছিল। কিন্তু যে আশা নিয়ে স্টেডিয়ামমুখী হয়েছিলেন দর্শকরা তাদের ফিরে যেতে হলো একরাশ হতাশা নিয়ে। আরো একটা নিষ্প্রাণ ম্যাচ হলো বিপিএলে। মিরপুরের রহস্যময় উইকেটে রাজত্ব চলল বোলারদের। তাতে বিরক্ত দর্শকরা। প্রথম ইনিংস শেষেই গ্যালারিতে লেগে যায় ভাটির টান। ক্রিস গেইল ৫ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যেতেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় দর্শকের। রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ম্যাচটা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। যাওয়ার আগে সমর্থকরা সাক্ষ্যি হয়ে গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের লজ্জাজনক ইনিংসের। কাল বিপিএলে নিজেদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ করার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। মাশরাফি বিন মর্তুজার দুর্দান্ত বোলিং তোপে কুমিল্লা গুটিয়ে গেছে মাত্র ৬৩ রানে। যা চলতি টুর্নামেন্টের চলতি আসরে কোনো দলের সর্বনিম্ন সংগ্রহ।

৬৪ রানের সহজ লক্ষ্যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা কত দ্রুত পৌঁছাতে পারে সেটাই দেখার ছিল। কিন্তু মামুলি রানের জবাব দিতে নেমে ঘুমপাড়ানি ব্যাটিং করল রংপুর। দ্বাদশ ওভারের শেষ বলে গিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেছে তারা। অথচ রংপুর জিতেছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। রান তাড়ায় দলীয় ১৪ রানে উদ্বোধনী জুটি বিচ্ছিন্ন হলেও জয়ের জন্য কষ্ট হয়নি মাশরাফিদের।

কষ্ট যা হয়েছে ধৈর্যশক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়া কিছু পার ক্রিকেট ভক্তের। কারণ মেহেদী মারুফ এবং রাইলি রুশোর ব্যাটিং দেখে ঠিক বোঝার উপায় ছিল না ম্যাচ ঠিক কোন ফরম্যাটে হচ্ছে! অজেয় থেকে মাঠ ছাড়লেন দুজনই। কিন্তু দুজনের নামের পাশে রান ও বলের যে তারতম্য সেটা আসলে টি-টোয়েন্টি মেজাজের স্ট্রাইকরেট নয়। ওপেনার মেহেদী ৩৬ রান করার জন্য খরচ করলেন ৩৬ বল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান রুশো ২৮ বলে অপরাজিত থাকলেন। রান করেছেন মাত্র ২০!

এমন ঘুমপাড়ানি ব্যাটিং দিয়েই তিন ম্যাচের দ্বিতীয় জয়টি তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। এর মূল কৃতিত্ব অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। নড়াইল এক্সপ্রেস বল হাতে এদিন ভয়ংকরই না হয়ে উঠেছিলেন। বল হাতে শুরুতেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন মাশরাফি। কুমিল্লার শুরুর চার ব্যাটসম্যানকেই বোতলবন্দি করেছেন রংপুর অধিনায়ক। তার চার শিকারের তিনটিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় নামÑ তামিম ইকবাল, স্টিভেন স্মিথ এবং এভিন লুইস। জাতীয় দলের সতীর্থ ইমরুল কায়েসের হাতেও সাজঘরে ফেরার টিকিট ধরিয়ে দিয়েছেন টাইগার পেসার।

চার ওভারে মেডেনসহ ১১ রান দিয়ে মাশরাফি তুলে নিয়েছেন যার উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা এমন বোলিংয়ের সুবাদে অবধারিতভাবেই ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি উঠেছে মাশরাফির হাতে। বোলিং প্রান্তে অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গটাই দিয়েছেন শফিউল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম। এ দুজন মিলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ধস নামিয়েছেন। শফিউল দুটি এবং নাজমুলের শিকারের সংখ্যা তিনটি। খালি হাতে ফেরেননি ফরহাদ রেজাও।

মাশরাফিদের আগুন বোলিংয়ে কুমিল্লা এতটাই পুড়ল যে তাদের ১০ জনের রান সংখ্যা দিয়ে প্রায় একটা মোবাইল নাম্বার হয়ে যায়! ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারলেন মাত্র একজন। তিনি শহীদ আফ্রিদি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সাহাহ্নে এসে পাকিস্তানি কিংবদন্তি যেভাবে ব্যাট করেছেন তা তার ক্যারিয়ারের সঙ্গেই বেমানান।

জয় দিয়ে বিপিএলের চলমান আসর শুরু করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। সেদিনের ম্যাচ শেষে দলটির কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আফ্রিদির দায়িত্বশীল ব্যাটিং দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। কাল আরো বড় বিস্ময় উপহার দিয়েছেন আফ্রিদি। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ১৮ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। অথচ আফ্রিদি এমন সময়ই উইকেটে এসেছিলেন যখন বড় ধরনের লজ্জা চোখ রাঙাচ্ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। আফ্রিদি ব্যাট হাতে নামার আগেই ১৮ রানে পাঁচ উইকেট শেষ কুমিল্লার। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সংগ্রহের বিব্রতকর রেকর্ডই হয়ে যেত কুমিল্লার। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মান বাঁচিয়েছেন আফ্রিদি। তিনটি চার ও এক ছক্কার ইনিংসটা পাকিস্তানি অলরাউন্ডার খেলতে না পারলে হয়তো স্মিথদের আরো বড় লজ্জার মুখোমুখি হতে হতো।

"