মহাজোটের শরিকরা মন্ত্রিত্বের আশায়

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতা। যদিও জোটগত নির্বাচন করে এবার মিত্র দলগুলো থেকে ৩১ জন সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে এখনই হতাশ হচ্ছেন না শরিকরা। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, মন্ত্রিপরিষদে শরিক দলের সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় শরিক দলগুলো থেকে ছয়জন মন্ত্রিত্ব পান। একজন মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন। গতকাল সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। তাতে শরিক দলের কেউ ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, মন্ত্রিসভা নিয়ে ১৪ দলে কোনো আলোচনা হয়নি, তাই এটা কেউ জানত না। তবে সবার আশা ছিল, মন্ত্রিসভায় শরিকদের থাকাটাই স্বাভাবিক। নিশ্চয়ই এর ব্যাখ্যা শরিকদের পরে জানানো হবে। ১৪ দলীয় জোটের শরিক দুই দলের দুই নেতা বলেন, এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। নতুন মন্ত্রী যারা হয়েছেন এবং দফতরগুলো যেভাবে বণ্টন হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এক বছরের মধ্যে আবার মন্ত্রিপরিষদে একটা পরিবর্তন, সংযোজন হতে পারে। ওই দুই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেটা করলেন, সেটা নিশ্চয়ই সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে করেছেন। তবে কী হতে যাচ্ছে, সেটা জানতে সময় লাগবে।

২০০৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের শরিকদের মধ্য থেকে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়াকে টেকনোক্র্যাট কোটায় শিল্পমন্ত্রী করা হয়। ওই সরকারের শেষের দিকে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন দিলীপ বড়ুয়া। তবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এই তিনজন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। দফতর রদবদল হলেও তারা শেষ মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

তবে নতুন মন্ত্রিসভার তালিকায় নাম না থাকলেও শরিক দলগুলোর কেউ কেউ আশা করছেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হবে এবং তারা মন্ত্রিত্ব পাবেন।

এ বিষয়ে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘যে কারণে জোট বেঁধেছি, সেটা শেষ হয়ে যায়নি। ঐক্যবদ্ধভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। নিশ্চয়ই ভালো কিছু দেখতে পাব ভবিষ্যতে।’

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, শরিক দলগুলোর হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগের এমন অনেকেই বাদ পড়েছেন, যা কারো অনুমানেও ছিল না। মূলত নতুন নেতৃত্ব সামনে আনার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামনের দিনগুলোয় সময় বুঝে যা করার সেটা প্রধানমন্ত্রী করবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির তিনজন, জাসদ (ইনু) থেকে দুজন, তরিকত ফেডারেশন ও জেপি থেকে একজন করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে ২২ জন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ থেকে দুজন সংসদ সদস্য হয়েছেন এবার।

দশম সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় ছিল। ২০১৪ সালে সরকার গঠনের পরপরই মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয় দলটির সভাপতি এইচ এম এরশাদকে। তার স্ত্রী ও জাপার কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ হন বিরোধীদলীয় নেত্রী। দলের সভাপতিম-লীর তিন সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পূর্ণ মন্ত্রী এবং মো. মজিবুল হক (চুন্নু) ও মো. মসিউর রহমান রাঙা প্রতিমন্ত্রী হন।

এর আগে ২০০৯-১৪ মেয়াদের সরকারে জাতীয় পার্টি থেকে পাঁচজন মন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে জি এম কাদের শুরু থেকে এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক, মসিউর রহমান ও সালমা ইসলাম ২০১৩ সালের শেষ দিকে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হন।

এবারও জাতীয় পার্টির অনেকে সরকারে থাকতে চান। তবে এবার এরশাদ ঘোষণা দিয়েছেন, জাতীয় পার্টি সরকারে যাবে না, তারা সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি নিজে বিরোধীদলীয় নেতা হন।

 

"