বঙ্গভবনে শপথ

নতুন-পুরনোর মিলন মেলা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ
ama ami

নতুন সাজে সেজেছিল বঙ্গভবন। লক্ষ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। দুপুর থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে থাকেন বঙ্গভবনে। গেটজুড়ে ভিড় ছিল নজরকাড়ার মতো। কে আসেনি এই শপথ অনুষ্ঠানে। সাবেক মন্ত্রী, বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে সাবেক এবং বর্তমান আমলা, বিদেশি অতিথি ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিক। বাদ ছিল না নির্বাচন কমিশনের কমিশনার-কর্মকর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে পিএসসির চেয়ারম্যান, সদস্য ও রথি-মহারথিরা। বিচারপতিদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল এ চা-চক্রে। আমলা, রাজনীতিবিদ

ও ব্যবসায়ীরা ছিলেন এখানে। বলা যায়, সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক অন্যরকম মিলন মেলা।

এদিকে, শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্টের কাউকে দেখা না গেলেও মহাজোটের শরিকদের অনেকেরই দেখা মিলল। কথা হলো অনেকের সঙ্গে। ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও ফজলে হোসেন বাদশা একটু বিলম্বে হাজির হন দরবার হলে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শপথ বাক্য পাঠ করাচ্ছিলেন রাষ্ট্রপতি। আরো বিলম্বে আসেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মাহী বি চৌধুরী, তার কিছুক্ষণ আগে এসে পৌঁছান একই দলের এমপি মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। আর জাসদের শিরিন আকতারকে দেখা মিলল এ চত্বরে। জাতীয় পার্টির ফখরুল ঈমাম ও মাহজাবিন মোর্শেদও এসেছিলেন দরবার হলে।

তবে দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনে একে অন্যের সঙ্গে মতবিনিময়, সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা খোশগল্পে মেতে না উঠলেও অনুষ্ঠান পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের চা-চক্রের আমন্ত্রণে সব স্রোত যেন মুহূর্তেই একবিন্দুতে এসে মিলিত হয়। মুহূর্তেই ভিন্ন আমেজ ফিরে আসে বঙ্গভবনের সবুজ চত্বর। গ্রিন আপেল, কমলার সঙ্গে প্রেটিস, ছিল রসালো মিষ্টি। মূলত নাশতা সেরে কফি পান করতে করতে মেতে উঠেন আমন্ত্রিত অতিথিরা খোশগল্পে। প্রধানমন্ত্রী নিজে পুরো চা-চক্র এলাকা ঘুরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে রসিক মহামান্য কেন পিছিয়ে থাকবেন। সেলফি তুলে হাস্যরস করে নতুন-পুরনো মন্ত্রী-এমপি এবং নবীন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান।

বঙ্গভবনের চা-চক্রের আলোচনায় বেশি প্রাধান্য পায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল এবং আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনন্য রেকর্ড এবং নবীনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন। তবে পুরনো মন্ত্রীদের এ নিয়ে ন্যূনতম খেদোক্তি কথায় প্রকাশ পাইনি। সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছি এটাই অনেক সৌভাগ্যের। প্রত্যেকের স্বপ্ন থাকে মন্ত্রী হওয়ার প্রধানমন্ত্রী একজন ন্যায় বিচারক তাই নতুনদের সুযোগ দিয়ে তার উদারতা প্রকাশ করেছেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। উনি যাদের এবারের মন্ত্রিসভায় যোগ্য ও দক্ষ মনে করেছেন তাদের করেছেন। এতে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

এই চা-চক্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে অনেককে খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গেছে। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে আমলা, নতুন-পুরনো সহকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপে ব্যস্ত ছিলেন পরিচিতজনরা। কিন্তু চা-চক্র পর্ব শেষে বঙ্গভবন ত্যাগ করার আগে জটলা লেগে যায়। অনেক প্রবীণ সদস্যদের যানবাহন জটে পড়ে দীর্ঘক্ষণ বঙ্গভবনের বাইরে প্রবেশদ্বারে অপেক্ষা করতে হয়। সন্ধ্যার আগে চা-চক্র পর্ব শেষ হলেও অনেককে বাড়ির পথ ধরতে সময় গড়িয়ে রাত হয়ে যায় বঙ্গভবন ছাড়তে। এ নিয়ে ন্যূনতম অভিযোগ-অনুযোগ পাওয়া যায়নি কারো দিক থেকে।

উল্লেখ্য, বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে শপথ নেন এবং পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীরা। সবাইকে শপথ পাঠ করার রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

 

"