রাজধানীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

রাজধানীতে ধর্ষণের পর তিন তলা থেকে ফেলে দুই বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শিশুটির নাম আয়েশা (২), সে মা-বাবা ও তিন বোনের সঙ্গে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের এক বস্তিতে থাকত। প্রতিদিন সকালে আয়েশার মা-বাবা কাজে যান। এই সময় গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনে গলিতে খেলে বেড়াত শিশুটি। অন্যান্য দিনের মতো গত শনিবারও বিকেলে খেলতে বের হয় আয়েশা। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের চার তলা একটি ভবনের সামনে আয়েশার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আয়েশার পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মো. নাহিদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ করে চার তলা ভবনের তিন তলা থেকে তাকে নিচে ফেলে হত্যা করেছে। আয়েশার মামা মো. আলী কাছে অভিযোগ করেন, আয়েশাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন ৫৩/১জ দীননাথ সেন রোডের চার তলা বাড়ির মালিক নাহিদ। সে ভবনের তিন তলায় থাকে। আয়েশা বিকেলে যখন খেলছিল, তখন তাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ফ্ল্যাট নিয়ে যায় নাহিদ। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে ফ্ল্যাটের খোলা বারান্দা থেকে আয়েশাকে নিচে ফেলে দেয় নাহিদ। এ সময় আয়েশার চিৎকার আশপাশের লোকজনও শোনে।

মো. আলীর ভাষ্য, আয়েশাকে নিচে ফেলার শব্দ বাড়ির পাশের মাঠ থেকে কয়েকজন যুবক শুনতে পান। এলাকার লোকজন এসে আয়েশার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে নাহিদকে আটক করেন। আয়েশার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। শরীরেও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে নাহিদ। তবে গত রোববার নাহিদের মেয়ে (১৩) তার বাবার অপকর্মের কথা এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেয়।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনার পর আয়েশাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আয়েশার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর গত রোববার জুরাইন কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

আয়েশার বাবা মো. ইদ্রিস ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন। মা রাজিয়া সুলতানা এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাদের চার মেয়ের মধ্যে আয়েশা দ্বিতীয়।

এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযোগ ওঠা নাহিদ পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ব্যবসা করত। তবে বর্তমানে সে আর ব্যবসা করে না। দীননাথ সেন রোডে নিজের চার তলা বাড়ির ভাড়ার টাকায় তার সংসার চলে। নাহিদ উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ফের বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদের সংসার ছেড়ে চলে যায়।

আয়েশার মৃত্যুর ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানার পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। এই মামলায় গত রোববার রাতে নাহিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার শামসুজ্জামান বাবু বলেন, প্রাথমিকভাবে আয়েশার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাহিদের পরিবার বা স্বজনদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

"