নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৯

উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ মাঠে নেই বিএনপি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)

কদিন পরই নির্বাচন, দেশজুড়ে এখন ভোটের হাওয়া। খেটে খাওয়া দিনমজুর থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চবিত্ত সবার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। পাড়ায়-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে রাত-দিন খেটে চলেছেন তারা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কুমিল্লা-৯ আসনে প্রচারদৌড়ে সব দিকে থেকে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম। সেখানে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচার এখন তুঙ্গে। তার অনুসারী নেতাকর্মী থেকে শুরু করে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট নন, সমাজের এমন কিছু প্রভাবশালী লোকজনও উন্নয়নের পক্ষে নৌকার প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রচার আরো বেগবান হচ্ছে।

এলাকার সুধীজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবহেলিত ও সন্ত্রাসকবলিত লাকসাম-মনোহরগঞ্জকে গত দশ বছরে উন্নয়নের মডেল এলাকা হিসেবে তৈরি করেছেন বর্তমান এমপি মো. তাজুল ইসলাম। ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র লাকসাম শহর। বিভাগীয় শহরের পরই জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ কুমিল্লার আসনটি। সেটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে। মো. তাজুল ইসলাম এমপির হাত ধরেই লাকসাম পৌরসভা এখন প্রথম সারির একটি মডেল শহর। তা ছাড়া যুগ যুগ ধরে অবহেলিত মনোহরগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন নৌকা প্রার্থীকেই উন্নয়নের প্রতীক বলে মনে করছে। তাই ভিন্ন কোনো প্রার্থী এলো কী গেল, এদিকে নজর নেই তাদের। উন্নয়নের সুফলভোগী সাধারণ মানুষ এখন দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এমপি তাজুল ইসলামের পক্ষে একাট্টা। তাই প্রচার-প্রচারণায় ভিন্ন মার্কা বা প্রার্থীর কোনো তৎপরতাকে সাধারণ মানুষ আমলে নিচ্ছে না। গত কয়েক দিনে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের অধিকাংশ এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দল দেখছে না, এলাকার উন্নয়নের একমাত্র রূপকার হিসেবে ব্যক্তি তাজুল ইসলামের কথাই এখন ঘুরেফিরে আসছে সাধারণের মুখে মুখে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের পক্ষের কোনো প্রচার এখনো চোখে পড়েনি। দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল আজিম নমিনেশন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিলেন। এলাকায় প্রচার ছিল তিনি এবার নমিনেশন পাবেন না। অন্যদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সব পর্যায়ের কমিটিতে আনোয়ারুল আজিমের লোকজনকে পদায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে আনোয়ারুল আজিম ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখালেও তার লোকজনের কোনো হিল্লা করতে পারেননি। দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে তার অনুসারী নেতারা বিতাড়িত হওয়ায় গত দুই বছর থেকেই তারা আজিমের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় তার পক্ষে প্রচারের জন্য এমন কর্মী-সংকট দেখা দিয়েছে, তিনি ঠিকমতো মাঠেও নামতে পারছেন না। প্রার্থী হিসেবে বিএনপির টিকিট পেয়ে আনোয়ারুল আজিম কয়েক দফা লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ঘুরে গেলেও নেতাদের সঙ্গ না পাওয়ায় নির্বাচনের মাঠে নামতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি সবাইকে নিয়ে মাঠে নামতে পারেন কি নাÑ এ নিয়ে শঙ্কায় বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী।

তার ওপর মনোনয়নবঞ্চিত অংশের নেতারা আনোয়ারুল আজিমের পক্ষে মাঠে নেমে কতটা সক্রিয় ভূমিকা রাখে সাধারণের মনে, এ প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপির এই প্রার্থী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সবাইকে এখনো ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আদৌ পারবেন কি না, সে সংশয় রয়েছে। তাই ধানের শীষের পক্ষে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় প্রচার সরগরম করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রার্থীর এমন দৈন্যতায় হতাশ দলের সাধারণ নেতাকর্মীরাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির কর্মী প্রতিবেদককে জানান, ‘শুনেছি আজিম সাহেব নমিনেশন পেয়েছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত ওনার চেহারাটাও দেখলাম না। নির্বাচনের আর মাত্র ১৫ দিন বাকি। এ অবস্থায় তিনি কখন প্রচারে নামবেন আর কখন মাঠ গোছাবেন, তা কেবল তিনিই বলতে পারেন।’ এ ছাড়া চৈতী কালাম নমিনেশন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

 

"