বিক্ষুব্ধ মনোনয়নবঞ্চিতরা

বিএনপির পল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে হামলা

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মনোনয়ন না দেওয়ায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন দলটির তিনজন নেতার সমর্থকরা। সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার ও গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিমের কয়েক হাজার সমর্থক গতকাল শনিবার বিকেলে এ হামলা চালিয়েছে। এই কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের আগে দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন কারাবন্দি এহছানুল হক মিলনের কর্মী-সমর্থকরা। পরে তারা সেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভের কথাও জানান।

বেলা সাড়ে ৫টায় কার্যালয়ের সামনে এসে ঢিল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করছেন তারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা ওই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১, তৈমূর আলম নারায়ণঞ্জ-১ এবং সেলিমুজ্জামান গোপালগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কয়েক হাজার নেতাকর্মী এসে বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও করেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন তারা। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙে যায়। চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলনকে না দিয়ে এবার বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে মোশাররফ হোসেনকে।

বিক্ষুব্ধদের একজন আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কচুয়া থেকে মিলনকে চাই। যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি একজন আদম ব্যাপারী। ৩৩ বছর তাকে এলাকায় দেখিনি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। তিনি মনোনয়ন পান কীভাবে?’ এবাদুর রহমান নামে আরেকজন অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ‘এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে সরকার ৩৩টি মামলা দিয়েছে। তিনি তার সবকিছু ত্যাগ করেছেন দলের জন্য। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে টাকা খেয়ে একজন ভুয়া লোককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা মানব না।’ মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুও।

"