আপিলের দ্বিতীয় দিন

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫০ জন

মায়া-হাওলাদারের শিকে ছিঁড়ল না

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের বিষয়ে আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ১৫০ জনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ১৬১ থেকে ৩১০ ক্রমিক পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। এতে আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়েছে ৭৮ জনের। এর মধ্যে ৫০ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২৮ জনের মধ্যে ২৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মেহেদী হাসানের আপিল শুনানি নিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় পার্টির সদস্য বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। আজ শনিবার অন্যদের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে চার নির্বাচন কমিশনার আপিল শুনানি নেন। সকাল ১০টায় শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের এই আপিল শুনানি। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একটানা শুনানি নেওয়া হয়। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি শেষে ফের শুনানি চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেল ৩টায় ফের শুরু হয় আপিল শুনানি।

আপিলে বৈধ যারা : এদিন আপিলে যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারা হলেনÑ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে মো. জিয়া উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে মো. মুসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে হাসান মাহমুদ চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৭ আবু আহমেদ হাসনাত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আবদুল খালেক, কুমিল্লা-১ আলতাফ হোসাইন, চাঁদপুর-৫ খোরশেদ আলম খুশু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সাইফুল্লাহ (হুমায়ুন মিয়া), বরিশাল-২ এ কে ফাইয়াজুল হক, পটুয়াখালী-১ মো. আবদুর রশিদ, বরিশাল-১ বাদশ মিয়া, বরগুনা-১ মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার, ভোলা-১ গোলাম নবী আলমগীর, বরিশাল-২ মাসুদ পারভেজ, ঝালকাঠি-১ বজলুল হক হারুন (প্রতিপক্ষ মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে ইসি), পটুয়াখালী-২ শহিদুল আলম তালুকদার, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রতœা (প্রতিপক্ষের আবেদন নামঞ্জুর), বরিশাল-৪ পংকজ দেবনাথ (মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের আবেদন নামঞ্জুর), পিরোজপুর-৩ মো. রুস্তম আলী ফারাজী, বরিশাল-২ সৈয়দ রুবিনা আক্তার, ভোলা-৪ আসনে নাজিম উদ্দিন আলম (প্রতিপক্ষের আপিল নামঞ্জুর), বরিশাল-৪ আসনে মাহবুবুল আলম।

আপিলে বৈধতা ফিরে পাওয়ার তালিকায় আরো আছেনÑ ঢাকা-১৬ আসনে আলহাজ্জ্ব এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা-৩ আসনে মো. সুলতান আহম্মদ খান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মো. সালাউদ্দিন (রুবেল), কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মোহাম্মদ মুছা খান, টাঙ্গাইল-৮ আসনে মো. আবদুল লতিফ মিয়া, নরসিংদী-২ আসনে জাইদুল কবির, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, গাজীপুর-৩ আসনে মো. জহিরুল হক মন্ডল বাচ্চু, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মঈনুল ইসলাম খান, শরীয়তপুর-৩ আসনে সুশান্ত ভাওয়াল, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে নুরুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মো. আবদুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ডা. এনামুল হক ইদ্রিস, নারায়গঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৬ আসনে আবুল কাশেম, টাঙ্গাইল-৭ আসনে সৈয়দ মজিবর রহমান, শরীয়তপুর-২ আসনে মো. বাদল গাজী, মাদারীপুর-১ আসনে মো. শাহনেওয়াজ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন খোকা, টাঙ্গাইল-৬ আসনে ব্যারিস্টার এম আশফাকুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৬ আসনে মামুনুর রহমান, টাঙ্গাইল-৩ আসনে এস এম চান মিয়া, মাদারীপুর-২ আসনে আলামিন মোল্লা, ঢাকা-৮ আসনে এস এম সরোয়ার, মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা আক্তার ও ঢাকা-১ আসনে ফাহিমা হোসাইন জুবলি।

শুক্রবার সকালে পটুয়াখালী-২ আসনে শফিকুল ইসলামের আপিল শুনানি নিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও পরে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

আপিলেও মনোনয়নপত্র বাতিল যাদের : আপিলের পরও যারা প্রার্থিতা ফিরে পাননি, তারা হলেনÑ চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে সামির কাদের চৌধুরী (গিয়াস কাদের চৌধুরীর ছেলে), ফেনী-৩ আসনে আবদুল লতিফ জনি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ মো. শাহজাহান, কুমিল্লা-২ আসনে আব্দুল মজিদ, বরিশাল-৬ আসনে ওসমান হোসেইন, পিরোজপুর-৩ আসনে ডা. সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস, ঝালকাঠি-১ আসনে মো. মনিরুজ্জামান, পটুয়াখালী-১ আসনে রুহুল আমিন হাওলাদার, পটুয়াখালী-২ আসনে মিজানুর রহমান খান, ভোলা-৪ আসনে এম এ মান্নান হাওলাদার, ঝালকাঠি-১ আসনে মো. শাহজালাল শামীম, পিরোজপুর-১ আসনে মনিমোহন বিশ্বাস, ঝালকাঠি-১ আসনে ইয়াসমিন আক্তার পপি ও ভোলা-২ আসনে হুমায়ুন কবির।

এই তালিকায় আরো আছেন, নরসিংদী-২ আসনে আলতামাস কবীর, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে সুরঞ্জন ঘোষ, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মো. আম্মান খান, শরীয়তপুর-১ আসনে আলমগীর হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে আরিফুর রহমান, মানিকগঞ্জ-১ আসনে আতোয়ার হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মো. আনিসুজ্জামান, ঢাকা-১৭ আসনে মো. আরিফুজ্জামান খোকন, ঢাকা-৮ আসনে মেজর (অব.) মামুনুর রশীদ, গোপালগঞ্জ-১ আসনে শামসুল আলম খান চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মো. মনিরুজ্জামান নয়ন ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে রেহান আফজাল।

গত বৃহস্পতিবার আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬০ জনের আবেদনের শুনানি হয়েছে। এদের মধ্যে ৮০ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, ৭৬ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং চারজনের আবেদন স্থগিত রাখা হয়।

"