দুই জোটের প্রার্থী ঘোষণা

নৌকা পেলেন ৬ শরিকের ১৬ প্রার্থী ১৭ আসনে আ.লীগের একক প্রার্থী

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব আসনে দুজন করে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন; গতকাল সেই ১৭ আসনে চূড়ান্ত একক প্রার্থীদের চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দুটি আসনের একটি (রংপুর-৬) জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া জোটের যেসব শরিক ও মিত্র দলের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন, এমন ছয় শরিকের ১৬ প্রার্থীকেও গতকাল চূড়ান্ত চিঠি দেয় ক্ষমতাসীনরা। একই সঙ্গে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ৪০-৪২টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে পাঁচটি, জাসদকে (ইনু) তিনটি, জাসদকে (আম্বিয়া) একটি, তরিকত ফেডারেশনকে দুটি, যুক্তফ্রন্টকে (বিকল্পধারা) তিনটি ও জাতীয় পার্টিকে (জেপি) দুটি করে আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সে হিসেবে জোটের শরিক ও মিত্র দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫ থেকে ৬০।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে চিঠি তুলে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ২৩০ আসনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেয় দলটি। সেখানে বেশ কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থীও দেওয়া হয়। ওবায়দুল কাদের জানান, আওয়ামী লীগ ২৪০ আসনে তাদের প্রার্থী রেখেছে। বাকি ৬০ আসনের মধ্যে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিকে ৪০ থেকে ৪২টি আসন ছাড়ছে আওয়ামী লীগ। অবশিষ্ট আসনগুলো ছাড়া হচ্ছে ১৪ দল ও তার শরিকদের জন্য। শরিক দলগুলো যদি মনে করে তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে অন্যান্য আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তবে তারা তা করতে পারবে। গতকাল রাতেই সংসদীয় ৩০০ আসনের মনোনয়নের একক প্রার্থীর তালিকা দলীয় সভানেত্রীর হাতে দেওয়া হবে। তিনি তালিকা চূড়ান্ত করবেন। এর বাইরে মহাজোটের শরিক যুক্তফ্রন্টকে ৩টি আসন দেওয়া হয়েছে। বাকি যে ২-৪টি আসন এখনো অমীমাংসিত আছে, তাও গতকাল রাতেই সমাধান হওয়ার কথা। আজ শনিবার নির্বাচন কমিশনে মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা পাঠানো হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

১৭ আসনে আ.লীগের একক প্রার্থী : যেসব আসনে দুজনকে মনোনয়নপত্র দিয়েছিল আওয়ামী লীগ, সেই ১৭ আসনে দলীয় একক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৭টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এসব আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী (রংপুর-৬), নিজামউদ্দিন জলিল (জন) (নওগাঁ-৫), মো. শহিদুল ইসলাম (বকুল) (নাটোর-১), বি এম কবিরুল হক (নড়াইল-১), ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (বরগুনা-১), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), তানভির হাসান (ছোট মনির) (টাঙ্গাইল-২), আবুল কালাম আজাদ (জামালপুর-১), মো. মোজাফফর হোসেন (জামালপুর-৫), সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), হাজী মো. সেলিম (ঢাকা-৭), আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) (ঢাকা-১৭), ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর (চাঁদপুর-১), নুরুল আমিন (চাঁদপুর-২), মুহম্মদ শফিকুর রহমান (চাঁদপুর-৪) ও এ কে এম শাহজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩)।

শেখ হাসিনা একটি আসন ছেড়ে দিলেন : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবার একটি আসনে নির্বাচন করবেন। নিজের একটি আসন তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। তার ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোটে লড়বেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, রংপুর-৬ আসনে শেখ হাসিনার বদলে সেখানে প্রার্থী হচ্ছেন শিরীন শারমিন।

প্রধানমন্ত্রী এবার দুটি আসন গোপালগঞ্জ-৩ ও রংপুর-৬ থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমাও দেন তিনি। এর মধ্যে রংপুর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শিরীন শারমিনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ফলে এবারই প্রথমবারের মতো একটি আসনে ভোট করছেন শেখ হাসিনা। ১৯৯১ সাল থেকে সব সংসদ নির্বাচনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার ফলে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের দুটিতে এবার নতুন প্রার্থী এলো আওয়ামী লীগের। এর মধ্যে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়লেন সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. নুরুল আমিন। বাদ পড়লেন বর্তমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান নতুন প্রার্থী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে। বাদ পড়লেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান পরিবহনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হলো। বাদ পড়লেন গোলাম ফারুক। পটুয়াখালী-৩ আসনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। এখানে বাদ পড়লেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা। নওগাঁ-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিলের ছেলে নিজামুদ্দিন জলিল জন। এখানে বাদ পড়লেন আরেক প্রার্থী আবদুল মালেক। নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী বি এম কবিরুল হক চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন। বাদ পড়লেন ১৪ দলীয় জোট শরিক জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। টাঙ্গাইল-২ আসনে তানভীর হাসান (ছোট মনির) চূড়ান্তভাবে মনোনীত হলেন। বাদ পড়লেন বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল। জামালপুর-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ দলীয় প্রার্থী হলেন। বাদ পড়েছেন নূর মোহাম্মদ। জামালপুর-৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাফফর হোসেন। এখানে বাদ পড়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা।

ঢাকা-৫ আসনে হাবিবুর রহমান মোল্লাকে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়েছে। এ আসনে বাদ পড়েছেন মনিরুল ইসলাম মনু। ঢাকা-৭ আসনে হাজী সেলিম চূড়ান্ত প্রার্থিতার চিঠি পেয়েছেন। বাদ গেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হিসেবে থাকছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। এ আসনে বাদ পড়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান। ফরিদপুর-২ আসনে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসনে বাদ পড়েছেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সাল। বরগুনা-১ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু। এ আসনে বাদ পড়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির।

নৌকা পেলেন ৬ শরিকের ১৬ প্রার্থী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের জন্য ২৪০ আসন রেখে ছয় শরিক দলের ১৬ প্রার্থীকে নৌকার চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টিকে পাঁচটি, জাসদ (ইনু) তিনটি, জাতীয় পার্টির (জেপি মঞ্জু) দুটি, তরিকত ফেডারেশনকে দুটি এবং জাসদকে (আম্বিয়া) একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর মহাজোটের শরিক যুক্তফ্রন্টের তিনজন প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে এবারের নির্বাচনে লড়বেন।

জোটের যেসব প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন, তারা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টি : রাশেদ খান মেনন (ঢাকা-৮), ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২), মোস্তফা লুৎফুল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), টিপু সুলতান (বরিশাল-৩) ও ইয়াসিন আলী (ঠাকুরগাঁও-৩)। জাসদ : হাসানুল হক ইনু (কুষ্টিয়া-২), শিরীন আখতার (ফেনী-১ ও রেজাউল করিম তানসেন (বগুড়া-৪)। বিকল্পধারা : এম এ মান্নান (লক্ষ্মীপুর-৪), মাহী বি চৌধুরী (মুন্সীগঞ্জ-১) ও এফ এম শাহীন (মৌলভীবাজার-২)। জেপি : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (পিরোজপুর-২) ও রুহুল আমিন (কুড়িগ্রাম-৪)। তরিকত ফেডারেশন : সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী (চট্টগ্রাম-২) ও আনোয়ার খান (লক্ষ্মীপুর-১)। জাসদ (আম্বিয়া) : মঈনুদ্দিন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮)।

"