ডেটলাইন বাংলামোটর

শিশু নূরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই : বাবা রিমান্ডে

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বাংলামোটর থেকে উদ্ধার নূর সাফায়েত নামের শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এই তথ্য জানান তিনি। এদিকে, নূর সাফায়েতের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। গত বুধবার ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর বাংলামোটর লিংক রোডের ১৬ নম্বর বাড়ি থেকে সাফায়েতের কাফন মোড়ানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তে তার যকৃৎ ও মাথায় কিছু সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে। কপালে ছোট দুটি আঘাত আছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোনো রক্তক্ষরণ নেই। তার গলব্লাডার স্বাভাবিকের চেয়ে বড়। ধারাবাহিকভাবে যারা না খেয়ে থাকে, তাদের গলব্লাডার সাধারণত এমন হয়ে থাকে। শিশুটি অপুষ্টিতে ভুগছিল। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে যকৃৎ, হৃদযন্ত্র ও গলব্লাডার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

গত বুধবার বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির ভেতর থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ওই শিশুর বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে আটক করে শাহবাগ থানার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন সকালে ওই বাড়ির এক বাবা তার দুই শিশুসন্তানকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছেন- এমন সংবাদে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চম্পক চক্রবর্তী কাজলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে কাজলের পক্ষে রিমান্ড আবেদনে বিরোধিতা করেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার।

তিনি বলেন, কাজলের বাড়ি নিজের নামে লিখিয়ে নিতে চাইছিলেন তার স্ত্রী মালিহা। তা না দেওয়ায় তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। কাজল দুই সন্তানের অন্তত একজনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য মালিহাকে অনুরোধ করেছিলেন। সে জন্য তাকে পরে উকিল নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিহা শিশু দুটোকে ওই বাড়িতেই ফেলে রাখেন।

শুনানি শেষে বিচারক আসামি নুরুজ্জামান কাজলকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। কাজল শুনানিতে ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে আদালতের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, ছেলেকে তিনি মারেননি।

আগের দিন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাফায়েতের মৃত্যুর কথা বললেও আদালতের বাইরে কাজল সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলের জ্বর হয়েছিল, মারা গেছে ঘুমের মধ্যে।

"