বিএনপির একক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত মিলে দুই শতাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। চূড়ান্ত হওয়া আসনগুলোর প্রার্থীদের তালিকা আজ যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করতে পারে। বাকি শতখানেক আসনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশনের আপিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে দলটিকে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭৫ জনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে কমিশন। মনোনয়ন অবৈধ হওয়া প্রার্থীরা বৈধতার জন্য কমিশনে আপিল করেছেন। আগামী ৭ ও ৮ তারিখে প্রার্থীদের চূড়ান্ত আপিলের রায়ে বোঝা যাবে শেষ পর্যন্ত কারা থাকতে পারছেন নির্বাচনে। এ তালিকা পাওয়ার পরই বাকি আসনগুলোর প্রার্থিতা ঘোষণা করবে বিএনপি। এ ছাড়া ২৩ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা মোটামুটি শেষপর্যায়ে থাকলেও এখনো ১৫-২০টি আসনের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালায় আসতে পারেননি নেতারা। নেতারা ধারণা করছেন, সেগুলোও দু-এক দিনের মধ্যে শেষ করে আনতে পারবেন।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা গতকাল সন্ধ্যায় ঘোষণা হতে পারে বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানালেও শেষ পর্যন্ত গত রাতে তা প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আজকে দিনে বা রাতে দুই শতাধিক আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে বিএনপি। সেই ঘোষণায় জোটকে ছেড়ে দেওয়া আসনের নামও থাকতে পারে।

গতকাল বুধবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। তবে আশা করছি, কালকের (আজকের) মধ্যে করে ফেলতে পারব। যদি তা পারি তাহলে সন্ধ্যার পরে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরে থাক এখন চেষ্টা করা হচ্ছে এটাকে আরো কী করে খারাপ করা যায়। খানাখন্দর আরো খোঁড়ার চেষ্টা হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্রগুলো কখনোই নির্বাচনের সহায়ক নয়।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের পর প্রতীক বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সভা-সমাবেশ-মিছিল করা যাবে না। অথচ আওয়ামী লীগ প্রতিদিন সভা-সমাবেশ-মিছিল করছে।

সূত্র জানায়, জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে বিএনপি। এখনো বেশ কয়েকটি আসনে শেষ সমঝোতা হয়নি। ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের সমঝোতা হয়ে গেছে। ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে কয়েক দিন ধরেই অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে বিএনপির। গণফোরাম বাদে অন্য দলগুলোর সঙ্গে এ আলোচনা শেষের পথে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিএনপির নেতারা বলেছেন, ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব আসনে ধানের শীষের একক প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল এই দুই জোটেই প্রধান শরিক হিসেবে আছে বিএনপি। দুই পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলটি। সবার প্রতীক হবে ধানের শীষ। এ ক্ষেত্রে আসন বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন বণ্টনের আলোচনা অনেকটা শেষ হলেও বাকি শরিকদের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে। জানা গেছে, আজ ও কাল জোটের শরিকদের মধ্যে আসনের দাবিদার বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বৈঠক করবেন। সে ক্ষেত্রে আজই জোটের আসন বণ্টনের সুরাহা হয়ে যেতে পারে।

আসন বণ্টন নিয়ে থেমে থেমে আলোচনা চলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেও। প্রতিটি শরিক দলের দু-তিনজন নেতার সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। আরো দুই দিন এ আলোচনা চলতে পারে।

জানা গেছে, বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোকে কেবল বেশি আসন পেতে আলোচনা নয়, জনপ্রিয় এবং বিজয়ী হতে সক্ষম এমন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল গণফোরামকে ঠিক কতটি আসন দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই সংখ্যা ১২-এর অধিক হবে না বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। তবে গণফোরাম আরো অধিকসংখ্যক আসনে তাদের প্রার্থী দিতে চায়।

জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা গত দুই দিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে প্রায় ১৭৫টি আসনে একক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। চূড়ান্ত হওয়া এসব প্রার্থীকে ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীকসহ চিঠি দেওয়া হবে। দল, জোট ও ফ্রন্টের একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনেও জমা দেওয়া হবে। জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছয়টি শূন্য আসনে সরকারের বাইরে অন্য কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা করেছেন। স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীকে দলীয় চিঠি দিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। এদিকে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে গেছে। এমনকি বিএনপি জোটের কোনো প্রার্থীও নেই এই ছয়টি আসনে। আসনগুলো হলো বগুড়া-৭, ঢাকা-১, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, রংপুর-৫ ও শরীয়তপুর-১ আসন।

 

"