স্বামীকে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ৬

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আশুলিয়া প্রতিনিধি
ama ami

সাভারের আশুলিয়ায় স্বামীকে আটকে রেখে পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুুলিশ। ধর্ষিতাকে পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার শেষ রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনা মিয়া মার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত রোববার গভীর রাতে একই এলাকার নাছির নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলো নরসিংহপুর এলাকার মো. জিন্নাহর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২২), একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আজাদ হোসেন (২৪), জলিল সরকারের ছেলে রানা সরকার (২৮), কোনাপাড়া এলাকার আবদুল সোবহান শেখের ছেলে রবিউল শেখ (২০), একই এলাকার মো. রিয়াজুলের ছেলে রুবেল (২২) এবং ঘোষবাগ এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২৪)।

তবে রজন নামে অভিযুক্ত একজন পলাতক রয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক ফজিকুল ইসলাম জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় নরসিংহপুর সোনা মিয়া মার্কেট এলাকায় বন্ধুর বাড়িতে পোশাককর্মী স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যায় তার স্বামী। এ সময় স্থানীয় এক ইউপি সদস্য তাহের মৃধার ম্যানেজার রজন, তার সঙ্গী রবিউলসহ সাতজন বখাটে ওই দম্পতির কাছে জানতে চায় তারা স্বামী-স্ত্রী কি না। এরপর সোনা মিয়া মার্কেট এলাকার নাছিরের বাড়িতে স্বামী ও স্ত্রীকে পৃথক কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় রাজনসহ তার সঙ্গীয়রা গভীর রাত পর্যন্ত ওই পোশাককর্মীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে মুঠোফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করে ধর্ষণকারীরা। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার রাত ১টায় থানায় অভিযোগ করা হলে মুক্তিপণের টাকা প্রদানের শর্তে ফাঁদ পাতে পুলিশ। পরে রোববার গভীর রাতে সোনা মিয়া মার্কেট এলাকায় রবিউল ও রুবেল মুক্তিপণের টাকা নিতে এলে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে সোনা মিয়া মার্কেটসংলগ্ন ইয়াপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাহের মৃধার অফিস থেকে আরো চারজনকে গ্রেফতার করে পুুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা ইউপি সদস্য তাহের মৃধার অনুসারী বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য তাহের মৃধা এলাকায় ধর্ষণ, চুরি, স্বেচ্ছাচারিতা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। তবে অভিযোগের সত্যতার ব্যাপারে ইউপি সদস্য তাহের মৃধার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

"