বিএনপির অভিযোগ

হেভিওয়েট ও সম্ভাব্য জয়ীদের ভোটে না রাখার পাঁয়তারা চলছে

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিলের সার্টিফায়েড কপি এখনো দেওয়া হয়নি। অথচ আপিলের জন্য বুধবারই (আজ) শেষ দিন। তার অর্থ হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে রিটার্নিং অফিসাররা বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য।

এই পাঁয়তারা করছে। আর বিএনপির যেসব প্রার্থীর নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা ছিল, তাদের মনোনয়নপত্র পরিকল্পিতভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আরেক নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটা নির্বাচন চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল বিএনপি যেন নির্বাচনে না আসে, তাহলে পাঁচ বছরের জন্য তারা ক্ষমতায় থাকবে। বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরাট একটা অপরাধ করে ফেলেছে। তাই এ কারণে বিএনপির যেসব প্রার্থী নিশ্চিত জিতবে, তাদের মনোনয়নপত্র পরিকল্পিতভাবে বাতিল করা হয়েছে।

বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের কথা বলারও সুযোগ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। আইনের দুই রকমের প্রয়োগ হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বার্থে আইন এক ধরনের আর বিএনপির ক্ষেত্রে আরেক ধরনের। বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন হাইকোর্টে নাকচ হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, কারো দন্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকলে তো চলবেই না এমনকি আপিলে মুক্তি পেলেও নিস্তার নেই। কারণ দন্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখন আমাদের প্রশ্নÑ অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ব্যাখ্যা যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে অন্যদের সংসদ সদস্য পদ কী অবৈধ নয়?

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সরকারপ্রধানকে খুশি করার জন্য ‘নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে’ সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

গতকাল নির্বাচন কমিশনে নিজের মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করতে এসে সাংবাদিকদের কাছে দুলু বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আমার নাকি কনভিকশন আছে। কনভিকশন যদি থেকেই থাকে, এটা গত এক বছর আগে আমি সাসপেন্ড করেছি। আমি কনভিকশন সাসপেন্ড করলে এটা নির্বাচন কমিশনের সমস্যা না।’ আপিলে মনোনয়ন ফিরে না পেলে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান দুলু।

 

"