বিএনপির ৩০০ যোগ্য প্রার্থীও নেই : জয়

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৩০০ জন যোগ্য প্রার্থী নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল সোমবার জয় তার ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করেই যাচ্ছে বিএনপি। প্রথমে তারা অভিযোগ করল গ্রেফতার নিয়ে। তাদের কর্মীরা ২০১৩-১৫ সাল পর্যন্ত কয়েক হাজার আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, আহত করেছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে। এসব ঘটনার পেছনে চিহ্নিত বেশির ভাগ লোকেরাই এত দিন লুকিয়ে ছিল অথবা দেশের বাইরে পালিয়ে ছিল। এখন নির্বাচনের আগে তারা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছে, এমনকি নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে। এদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কী করা উচিত? সামনে নির্বাচন বলে তাদের আইনের আওতায় আনা যাবে না? এদের জায়গা তো জেলখানা নয়, এদের জায়গা ফাঁসিকাষ্ঠে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘এখন বিএনপি তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল নিয়ে অভিযোগ করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভাইস চেয়ারপারসন দুজনেই আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। তারেক একজন পলাতক আসামি এবং হত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত, লন্ডনে বসে তার দলের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। একজন পলাতক খুনির হাতে নির্বাচিত প্রার্থী আর কেমনইবা হতে পারে?’

বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে জয় আরো বলেন, ‘বিএনপির বেশির ভাগ প্রার্থীই হয় অপরাধী, না হয় দুর্নীতিগ্রস্ত, ঋণখেলাপি, দুর্নীতি এমনকি তাদের নামে হত্যা মামলাও আছে। যেমন আবুল কালাম মোহাম্মদ রিয়াজুল করিম, যিনি পিরোজপুর থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, ব্রিটিশ আদালতের চিহ্নিত ফেরারি আসামি। নির্বাচন কমিশনের কি আসলেই উচিত ছিল এসব চিহ্নিত ফেরারি আসামি, ঋণখেলাপিকে নির্বাচন করতে দেওয়া? বিএনপি মোট আসনের দ্বিগুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, প্রতিটি আসনে কমপক্ষে দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে তারা। কারণ তারা জানে তাদের বেশির ভাগ প্রার্থীই হয় কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, না হয় ঋণখেলাপি এবং এরা নির্বাচনে অযোগ্য। এখন তারা নির্বাচন কমিশনকে কলঙ্কিত করতে এটাকে ব্যবহার করছে।’

বিএনপি প্রার্থীদের যোগ্যতা সম্পর্কে জয় বলেন, ‘আসল কথা হচ্ছে, বিএনপির ৩০০ জন যোগ্য প্রার্থী নেই; যাদের তারা মনোনয়ন দিতে পারে। তারা শেষ যেবার ক্ষমতায় ছিল, সেটি ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস এবং দুর্নীতিপরায়ণ সরকার। অবশ্য তখন তাদের সারা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার হিসেবে কুখ্যাতিও ছিল। যেসব প্রার্থীর দুর্নাম আছে, আইনি অভিযোগ আছে মাত্র, এমন প্রার্থীদের বাদ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। শুধু জনমতের কারণে যেসব বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ আছে, আদালতে তা খারিজ হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি। মানুষের জন্য কাজ করে যে দল, তাদের পক্ষেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।’

"