মন্ত্রিসভাকে বিদায় প্রধানমন্ত্রীর

ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ বাড়ছে পার্বত্য এলাকায়

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সরকারি কাজে ভূমি অধিগ্রহণ করলে ক্ষতিগ্রস্তরা বাজারমূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো ২০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাবেন। বেসরকারি কাজে অধিগ্রহণ করলে ক্ষতিপূরণ পাবে বাজারমূল্যের সঙ্গে আরো ৩০০ শতাংশ। বর্তমানে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় বাজারমূল্যের সঙ্গে আরো ১৫ শতাংশ। এসব সুবিধা রেখে দ্য চিটগং হিলটেক্স (ল্যান্ড অ্যাকুজিয়েশন) রেগুলেশন ১৯৫৮ সংশোধন করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন বাড়াতে নবম মজুরি বোর্ড পর্যালোচনায় কমিটি করে দিয়েছে সরকার। আর দক্ষ বৈমানিক ও বিমান প্রকৌশলী তৈরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ঢাকায়। বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক এসব অনুমোদন দেয়। এদিকে মন্ত্রিসভা থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের (মন্ত্রিসভা) শেষ বৈঠক। এরপর মন্ত্রিসভার আর কোনো বৈঠক হবে না। সবাই নিজ নিজ এলাকায় চলে যাবেন নির্বাচনী কাজে। আর দেখা হবে না। আগামীতে জনগণ যাকে ভোট দেবে অর্থাৎ জনগণ কাকে ভোট দেবে, এটা তারাই জানেন। পরবর্তীতে নতুন সংসদ হবে, নতুন কেবিনেট হবে, সেখানে কারা আসবে, সেটা তো এখনই বলা যায় না, সবাই ভালো থাকবেন। সবাইকে ধন্যবাদ।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড, ২০১৮-এর সুপারিশ উত্থাপন করা হলে মন্ত্রিসভা এই কমিটি গঠন করে দেয়। কমিটিতে শিল্পমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীকে রাখা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় কমিটিতে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নবম বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। সেজন্য মন্ত্রিসভা কমিটিকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটি (মন্ত্রিসভা কমিটি) যেটা চূড়ান্ত করবে, সেটাই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। যে সুপারিশ এসেছে উনারা তা পর্যালোচনা করবেন। পাঁচটি শ্রেণিতে ১৫টি বেতনক্রম নির্ধারণে সুপারিশ করা হয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, প্রথম তিন গ্রেডে ৮০ শতাংশ এবং শেষের দুই গ্রেডে ৮৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ওয়েজবোর্ড কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের জন্য একটা নতুন। অ্যারোস্পেস শুধু এমআইএসটিতে (মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) একটা ডিপার্টমেন্ট আছে। আর কোথাও কোনো সুযোগ নেই, এমনকি বুয়েটেও নেই। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংকে সম্প্রসারিত করার জন্য এ আইন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির গঠন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অন্যান্য ইউনিভার্সিটি যে রকম, একেবারে হুবহু একই রকম অনুসরণ করা হয়েছে। তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। এ বিষয়ে অর্ডিন্যান্স (অধ্যাদেশ) জারি হবে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ঢাকার পূর্বাচল যাওয়ার পথে স্থাপিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিমানবাহিনী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে।

আর ইপিজেড শ্রম আইন নিয়ে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন করার জন্য ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ সমর্থন নেওয়ার বিধান করা হয়েছে। আর ধর্মঘট করার জন্য দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন পড়বে।

"