ভোটে নেই জিয়া পরিবারের কেউ

খালেদা জিয়া কারাবন্দি তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত পুত্রবধূরাও বিদেশে

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের পরিবারের কোনো সদস্য এবার ভোটের মাঠে নেই। প্রায় এক যুগ রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। ১০ বছর পর জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে দলটি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দলটি অংশ নিলেও জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। মামলা, কারাদ- ও পলাতক থাকার সমস্যার কারণে এবার জিয়া পরিবারহীন নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ভোটে অংশ নেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়া ও তার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার ভোটে অংশ নেন। এরপর প্রতিটি নির্বাচনে খালেদা জিয়া ভোটে অংশ নিয়ে একাধিক আসনে জয়লাভ করেন। ভোটে প্রার্থী না হলেও বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরা ভোটে মাঠে ছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন পরিচালনায় সরাসরি ভূমিকায় ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাইয়ের শেষ দিন ছিল গত রোববার। তিনটি আসনে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফেনী-১ আসন ও ‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। দুইটি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার কথা উল্লেখ করেন ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদ উজ জামান। একই কারণ উল্লেখ করে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনেও খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ।

তারেক রহমান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। ভোটের আগে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যেই তিনি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় সাজা বহাল থাকার কারণে তার দেশে না ফেরার বিষয়টিও এক ধরনের নিশ্চিত।

তারেক রহমানের সহধর্মিণী জোবায়দা রহমানও বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনিও তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন এ কারণে তিনিও দেশে ফিরছেন না বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও জোবায়দা রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ভেতরে বিভিন্ন গুঞ্জন চলছিল কিন্তু পাসপোর্ট না থাকার কারণে সে আশাও ফিকে।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। শর্মিলা তার দুই মেয়ে নিয়ে বিদেশেই থাকেন। মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যেই তার বাস। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওই দিন শর্মিলা রহমান তার দুই মেয়েকে নিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। এবারের নির্বাচনে শর্মিলা রহমান কোনো আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি।

এবারা ফেনী থেকে খালেদা জিয়ার প্রয়াত ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দারের নির্বাচন করার কথা ছিল। শেষ সময়ে তিনিও নির্বাচনে অংশ নেননি। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কাদারও ভোট করছেন না। অবশ্য তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ও নন।

নীলফামারী-১ আসন থেকে এবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি খালেদা জিয়ার ছোট বোন সেলিনা ইসলাম বিউটির স্বামী। গতকাল সোমবার রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহরিন ইসলাম বর্তমানে পলাতক। খালেদা জিয়ার প্রয়াত বড় বোন খুরশিদ জাহান চকলেটের ছেলে শাহরিয়ার রহমান বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল মারা যান। জিয়াউর রহমানের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আহমেদ কামাল ছিলেন সবার ছোট। ভাইবোনদের মধ্যে তিনিই শুধু জীবিত ছিলেন। ফলে জিয়াউর রহমানের পরিবারের কোনো সদস্য এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।

"