প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের হিড়িক

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাতিল প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফেরত পেতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে শুরু করেছেন সংক্ষুব্ধরা। বলা যায়, অভিযোগ আবেদনের হিড়িক পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন ভবনের সংশ্লিষ্ট দফতরে। আজ ও আগামীকাল পর্যন্ত এ অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। গতকাল সোমবার আপিল শুরুর দিনেই আলোচিত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, ইমরান এইচ সরকার, রেজা কিবরিয়া, হিরো আলমসহ বাছাইয়ে না টিকা ৮২ প্রার্থী ইসিতে এসে আপিল করেছেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৪টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মনোনয়নে বাদ পড়া নেতারা আপিল করে আবার তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, গত রোববার ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। সারা দেশে দাখিল করা ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ২২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।

এ পর্যন্ত যারা আপিল করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মাওলা রনি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে নবাব মোহাম্মদ শামছুল হুদা, বগুড়া-৭ খোরশেদ মিলটন, খাগড়াছড়িতে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ-১ আবদুল ওয়াহাব, ঢাকা-২০ তমিজউদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ মোহাম্মদ আফসার আলী, কিশোরগঞ্জ-২ মো. আখতারুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মো. তৈয়ব আলী, মাদারীপুর-৩ মো. আবদুল খালেক, দিনাজপুর-২ মোকাররম হোসেন, ঝিনাইদহ-২ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট আবদুল মজিদ, ঢাকা-১ খন্দকার আবু আশফাক, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ ফরিদুল কবির তালুকদার, পটুয়াখালী-৩ মো. শাহাজাহান, পটুয়াখালী-১ মো. সুমন সন্যামত, দিনাজপুর-১ পারভেজ হোসেন, মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ কাইয়ুম চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ এস এম খলিলুর রহমান ও জয়পুরহাট-১ আসনে মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।

জানা গেছে, এক শতাংশ ভোটার না থাকা, লাভজনক পদে থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা, ঋণখেলাপি ও দন্ডপ্রাপ্তিসহ বিভিন্ন কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, আপিল না করলেও এ বিষয়ে তথ্য নিতে সোমবার কমিশনে এসেছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যে অজুহাতে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাতে মনে হয় না কারো মনোনয়নপত্র টিকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তাদের সবার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে। ইসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গোলাম মওলা রনি বলেন, সামান্য ভুলের কারণে বাতিল হয়েছে। এটি বাতিলের মতো ভুল ছিল না, যেখানে ইসি থেকে ছোট ভুলে জন্য বাতিল না নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে আশাবাদী। কমিশনের প্রতি আস্থা আছে। আশা করি, আমি নির্বাচন করার সুযোগ পাব।

এদিকে আপিল করতে ইসিতে এসে বগুড়া-৪ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম বলেছেন ভিন্ন কথা। মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল না থাকার পরও ষড়যন্ত্র করে তাকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিরো থেকে হিরো হয়েছি। ষড়যন্ত্র করে আমাকে থামানোর চেষ্টা চলছে। এমপি-মন্ত্রীরা চায় না প্রজারাও রাজা হোক। ভোট যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। কমিশনে আপিল করেছি, আশা করছি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুয়োগ পাব। আপিলকারী মীর নাছির উদ্দীন আহমদ অভিযোগ তুলেছেন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারের চাপে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

তারুণ্যের ভাবনায় নির্বাচনী ইশতেহার

 

ঢাবি প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার কেমন হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন তরুণ ভোটাররা। কারণ এবারো তরুণ ভোটাররাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ভোট পেলে পার হওয়া যাবে নির্বাচনী বৈতরণী। এ কারণে তরুণ ভোটারদের পক্ষে টানতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে তাদের সুবিধার কথা ভাবছে। তরুণরাও বসে নেই। নির্বাচন সামনে রেখে ‘তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা’ প্রকাশ করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দলগুলো নিজ নিজ ইশতেহারে তরুণ সমাজের এসব দাবি-দাওয়া অন্তর্ভুক্ত করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেÑ এমন প্রত্যাশা তরুণদের। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী আডিটরিয়ামের সামনে এ ইশতেহার ভাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, নুরুল হক নুর ও ফারুক হাসান। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন শেষে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের নিশ্চয়তা প্রদান; বেকার তরুণদের সহজ শর্তে ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকার ঋণ প্রদান; ঘুষ-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার; চাকরির আবেদন সম্পূর্ণ ফ্রি করা; প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এবং লিখিত পরীক্ষার ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ; মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ নির্ধারণ; তথ্য যাচাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ; বেসরকারি চাকরি আইন প্রণয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক নিয়োগ পরীক্ষা প্রণয়ন; শিক্ষা খাতে বার্ষিক বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা; প্রশ্ন ফাঁসবিরোধী সেল গঠন; শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে কঠোর আইন এবং মেধা পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা; আবাসনের কৃত্রিম সংকট দূর করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ১০ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দ; শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা; শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতন কাঠামো তৈরি; মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা; যুব সমাজকে গণতান্ত্রিক পরিবেশে উন্নত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে প্রতি বছর যুব অ্যাসেম্বলির আয়োজন এবং সেখানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

"