খালেদাসহ ৭৮৬ জনের মনোনয়ন বাতিল

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতীক ইজাজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব মনোনয়নপত্রে নানা ধরনের ত্রুটি থাকায় টানা দুদিন যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল বাতিল ঘোষণা করা হয়। এসব ত্রুটির মধ্যে প্রার্থীদের নিজের দোষ-গাফিলতি যেমন রয়েছে; তেমনি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ও ফৌজদারি বা দুর্নীতি মামলা থাকার কারণেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ঋণখেলাপি হওয়ায় ও মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করার কারণেও কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি।

বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, কাদের সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, বিএনপির নেতা মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনসহ অন্তত ২৫ জন আলোচিত হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে দুর্নীতি মামলার কারণে খালেদা জিয়ার ফেনী-১, বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ আসনে জমা দেওয়া তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়েছে। তবে এসব আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপির একজন প্রার্থীও টেকেননি। এ ছাড়া ঢাকার আরো ১১টি আসনেও বিভিন্ন দলের অনেক আলোচিত প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে গোলাম মাওলা রনিসহ নানা কারণে সমালোচিত কিছু প্রার্থী যেমন রয়েছেন; আবার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই ও ভাইয়ের ছেলের মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। বাতিল হয়েছে সিলেটের ছয়টি আসনের সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র।

ফলে ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নামার আগেই এসব প্রার্থীর ভোটযুদ্ধের সম্ভাবনা বাদ হয়ে গেল বললেই চলে। লড়াই শেষ হয়ে গেল নামার আগেই। বিএনপি, জাতীয়পার্টি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের এসব দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলছে এখন আপিলের ফলাফলের ওপর।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আজ, আগামীকাল ও পরশু নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ওপর শুনানি হবে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আতিয়ার রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন যদি আপিল বাতিল করে তবে সেই প্রার্থী আদালতেও যেতে পারবেন।

দুদিনের যাচাই-বাছাই শেষে সারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত করেছে ইসি। ঋণখেলাপি, কারাদ-াদেশ পাওয়াসহ নানা কারণে প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকতারা।

এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের কথা বলছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে ‘সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হয়েছে’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকারও প্রমাণ মিলেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত উপকমিটির চেয়ারম্যান ফারুক খান। অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনাকে ‘সরকারের পরিকল্পনার অংশ’ বলেছে তার দল। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কেবল খালেদা জিয়া নয়, ‘বেছে বেছে’ তাদের জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর। আর গতকাল ছিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিন।

অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : দুর্নীতির মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, কাদের সিদ্দিকী এবং ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাসহ হেভিওয়েট অনেক প্রার্র্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ভুল তথ্য কিংবা ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলার কারণে এসব আলোচিত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকতারা।

মনোনয়ন বাতিলের তালিকায় যারা রয়েছেনÑ বগুড়া-৬, ৭ ও ফেনী-১: বেগম খালেদা জিয়া, পটুয়াখালী-৩: গোলাম মওলা রনি (বিএনপি), হবিগঞ্জ-১: রেজা কিবরিয়া (গণফোরাম), কুমিল্লা-৩: মজিবুল হক (বিএনপি), কুমিল্লা-৫: অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইউনুস (বিএনপি), সিলেট-৩: আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (বিএনপি), রাঙামাটি: আশীষ দাশগুপ্ত (স্বতন্ত্র) ও অমর কুমার দে (স্বতন্ত্র), ঢাকা-৫: সেলিম ভুঁইয়া (বিএনপি), ঢাকা-৬: সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন (বিএনপি), ঢাকা-৭: নাসিমা আক্তার (বিএনপি), ঢাকা-৯: বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস (বিএনপি), ঢাকা-১০: খন্দকার ফরিদুল আকবর (গণফোরাম), ঢাকা-১৭: নাজমুল হুদা, জামালপুর-১: এ. রশিদুজ্জামান মিল্লাত (বিএনপি), জামালপুর-৪: ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (বিএনপি) ও মামুনুর রশীদ জোয়ারদার (জাপা-এরশাদ), টাঙ্গাইল-৪ ও ৮: কাদের সিদ্দিকী (কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ), কুড়িগ্রাম-৪: জাকির হোসেন (আওয়ামী লীগ) ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ইমরান এইচ সরকার (স্বতন্ত্র), চট্টগ্রাম-৩: এ টি এম আবু তাহের (বিএনপি) ও আসলাম চৌধুরী (বিএনপি), চট্টগ্রাম-৫: মীর নাসির উদ্দিন (বিএনপি) ও তার ছেলে মীর হেলাল (বিএনপি), চট্টগ্রাম-৭: গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী (বিএনপি) ও তার ছেলে সামির কাদের চৌধুরী (বিএনপি), চট্টগ্রাম-৮: এম মোরশেদ খান (বিএনপি), শেরপুর-১: মো. হযরত আলী (বিএনপি), নাটোর-২ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (বিএনপি), পটুয়াখালী-১: এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার (জাতীয় পার্টি) ও পটুয়াখালী-২: শহিদুল আলম তালুকদার (বিএনপি)।

এসব প্রার্থীর মধ্যে মামলার কারণে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনের চট্টগ্রাম-৫ আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শুধু এমপি হওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তে দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নানা কারণে সমালোচিত-আলোচিত গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে নিজের হলফনামায় স্বাক্ষর করতেই ভুলে গেছেন বলে। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। একই কারণে হবিগঞ্জ-১ আসনের নৌকার প্রার্থী সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ঋণখেলাপির কারণে। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাদ পড়েছেন মহাজোটের আরেক প্রার্থী বর্তমান এমপি ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির হুইপ সেলিম উদ্দিন। তিনি সিলেট-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে সৃষ্ট গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আইনে আছে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে তাকে ওই আসনের মোট ভোটারের কমপক্ষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে ইমরান এইচ সরকার সেই শর্ত পূরণ করেননি। ফলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে বগুড়া-৪ আসনের তারকা আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি যে ভোটারদের তালিকা জমা দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনজন ভুয়া ভোটার ছিল। ঋণখেলাপের কারণে বাতিল হয়েছে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের মনোনয়ন।

রাজশাহীর ২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল : আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীতে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতাসহ ২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ২৩ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের অ্যাড. নাদিম মোস্তফা ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের আবু সাঈদ চাঁদ।

এদের মধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। আমিনুলের আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তার স্ত্রী আভা হক রয়েছেন। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে মামলার তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপের কারণে। রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মন্ত্রণালয়ে চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণে। বর্তমানে কারাবন্দি বিএনপির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা চাঁদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

এ ছাড়া রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন, বাসদের আলফাজ হোসেন, স্বতন্ত্র সুজা উদ্দিন, শহিদুল করিম শিবলী, সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস ও সাইদুর রহমান, রাজশাহী-২ আসনে এনপিপির সাইফুল ইসলাম স্বপন ও স্বতন্ত্র মাসুদ রানা, রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির মতিউর রহমান মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী আতিকুর রহমান, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির আবদুল গফুর ও যুক্তফ্রন্টের সরদার মোহাম্মদ সিরাজুল করিম, রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির আবু বকর সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের ওবায়দুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং রাজশাহী-৬ আসনের বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবদুর রাজ্জাকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

ঢাকা-১ ও বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষ নেই : ঢাকা-১ আসনে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফাহিমা হোসাইন জুবলী ও নাজমুল হুদার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি তারেক হোসেন। এদের কারো মনোনয়নই টেকেনি। অন্যদিকে, বগুড়া-৭ আসনে (গাবতলী-শাজাহানপুর) বিএনপির হিসেবে লড়তে জমা দেওয়া তিন প্রার্থীর মনোনয়নই বাতিল হয়ে গেছে। ফলে এ নির্বাচনে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেওয়ার জন্য বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকল না। এদের মধ্যে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, তিনি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায়। আর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় মনোনয়ন বাতিল হয় গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ মিল্টন ও জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরকার বাদলের। এ ছাড়া একই আসনে নানা কারণে ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, ফেরদৌস আরা খান, আবদুর রাজ্জাক, রেজাউল করিমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আরো মনোনয়ন বাতিল হলো যাদেও : ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে বিএনপির আবদুুল ওহাব ও স্বতন্ত্র আবু বক্কর, ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে বিএনপির মসিউর রহমান, বিএনপির আবদুল মজিদ, ঝিনাইদহ-৩: আসন থেকে এনপিপির ইসমাইল হোসেন ও ঝিনাইদহ-৪: আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) আবদুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের দুই মামলায় সাজা হওয়ায় নাটোর-২ আসনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর। ক্রেডিট কার্ডের বিল না দেওয়ায় হবিগঞ্জ-১ আসনে গণফোরামের প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা-২ আসনের দুর্নীতি মামলায় দ-িত বিএনপির আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী (অব.) মেজর আকতারুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

নেত্রকোনা-৪ আসনে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে থাকা শফী আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্র জমা দিলেও গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মামলা-সংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির মনির হোসেন সরকারের ঢাকা-৩ আসনের, বাগেরহাট-১ আসনে ঋণ খেলাপের দায়ে জাতীয় পার্টির আহমেদ জোবায়েরের এবং বাগেরহাট-২ আসনে একই দলের প্রার্থী শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় বাতিল করা হয়েছে।

"