আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এক-দুইটা দেশ প্রশ্ন তুলতেই পারে

কাদের

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি রাষ্ট্র। এর জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আলোচনা করলে এক-দুইটা দেশ প্রশ্ন তুলতেই পারে।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই বৈঠকে কয়েকটি রাষ্ট্র নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, ‘অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আলোচনা করলে এক-দুইটা দেশ প্রশ্ন তুলতেই পারে। আর বিএনপি তো প্রচুর টাকা পয়সা দিয়ে লবিং করাচ্ছে, এটা লবিংয়ের মাধ্যমেও হতে পারে।’

এ সময় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের করার কিছুই নেই বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়টা এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ওপর। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। তারা যদি মনে করে সেই পরিবেশ অনুপস্থিত আছে তবে এটা নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। ইলেকশনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে এটা নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে গেছে। তবে এখনো নির্বাচনের নমিনেশন সাবমিট হয়নি, এই মুহূর্তে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেন প্রয়োজন? এই প্রশ্ন আসে কেন? সেটা তো আমি জানি না।

সম্পাদকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাব মেলেনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পিএম ফেসের প্রশ্নটা তো প্রথমে আমি করেছি। সংসদীয় গণতন্ত্রে কে হবে তাদের প্রধানমন্ত্রী? এ প্রশ্নটা আমি রেইজ করেছি, এখন পর্যন্ত জবাব পাইনি।

সুষ্ঠু পরিবেশ না পেলে যে কোনো মুহূর্তে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারে বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, পল্টনে যে ঘটনাটা তারা ঘটিয়েছে, এরপর তারা সুষ্ঠু পরিবেশ কীভাবে চায়? তাদের আচরণে তো তার কোনো প্রকাশ নেই। যেভাবে তারা পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, এটা তো প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটেছে। তাদের ছবি আছে এটা গোপন করার কিছু নেই, গোপন করার কোনো সুযোগও নেই। তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে যে দানবীয় কা- ঘটাল, এখানেই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সংশয় রয়ে গেছে। তারা কি সংশয় করবে? নির্বাচন নিয়ে তাদের যে সহিংস ভূমিকা, সেটাই বলে দিচ্ছে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টা কতটা সংশয়ের ঊর্ধ্বে। নরসিংদীতে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, ‘প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে থেকে গ্রামে গ্রামে এই ঘটনা ঘটে আসছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। কিছুদিন আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তখন তো মিডিয়া সেটাকে রাজনীতিতে জড়ায়নি, এখন নির্বাচন, তাই কিছু মিডিয়া এমন লিখছে।’

 

"