অনন্য উচ্চতায় মুশফিক

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে অষ্টম উইকেটরক্ষক হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। সেটাও পাঁচ বছর আগে। কাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম উইকেটরক্ষক হিসেবে দুটি দ্বিশতক হাঁকিয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন মুশফিক। অবাক হওয়ারই কথা। কারণ কুমার সাঙ্গাকারা (১১) এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (৪) মতো লিজেন্ডেরও একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি আছে। কিন্তু এসব দ্বিশতকের টেস্টে উইকেটের পেছনে দাঁড়াননি ম্যাককালাম। সাঙ্গাকারা দাঁড়িয়েছেন মাত্র একবার। মুশফিক তাই অনন্য উচ্চতায়।

আগে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। কাল ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন সেটাকে মুশফিক রূপ দিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। তাতেই ইতিহাস। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে দুটি দ্বিশতকের মালিক হয়ে গেলেন তিনি। ২১৯ রানের ইনিংসে উইকেটরক্ষকদের হিসেবের সর্বোচ্চ চতুর্থ সংগ্রাহক হলেন মুশফিক। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ইনিংস ঘোষণা না করলে হয়তো অ্যান্ডিং ফ্লাওয়ারকেও (২৩২*) ছাড়িয়ে যেতে পারতেন তিনি।

অবশ্য জিম্বাবুয়ের কিংবদন্তিকে টপকাতে না পারলেও সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে গেলেন মুশফিক। গত বছরের শুরুতেই ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রান করেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের জার্সিতে আরো একজনের দ্বিশতক আছে। তিনি তামিম ইকবাল। চোটের কারণে আপাতত দলের বাইরে আছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রান করেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশকে প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদটাও দিয়েছিলেন এই মুশফিকই। গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাঁটায় কাঁটায় ২০০ রান করেছিলেন তিনি। এবার নিজেকে তো বটেই, অন্য দুই সতীর্থকেও ছাড়িয়ে গেলেন মুশফিক। শুধু কি সতীর্থ? কালকের দ্বিশতকে অনেক রথী-মহারথীকেও পেছনে ফেলেছেন তিনি। স্বীকৃত উইকেটরক্ষকদের মধ্যে টেস্টে দ্বিশতক আছে কুমার সাঙ্গাকারা, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অ্যান্ডি ফ্ল্যাওয়ার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ইমতিয়াজ আহমেদ, তসলিম আরিফ, ব্রেন্ডন কুরুপ্পুর। কাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজে দাঁড়িয়ে সবাইকে পেছনে ফেললেন মুশফিক।

কাল দ্বিতীয় দিন চা বিরতির পর কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছে যান মুশফিক। সিকান্দার রাজাকে পুল করে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। ইতিহাসের পাতায় ঢুকে যাওয়া মুশির তখন কী যে উদ্যাপন। তার উচ্ছ্বাস যেন শেষ-ই হবে না! দুই হাত ওপরের দিকে উঁচিয়ে, শূন্যে চুমু ছুড়ে দেওয়া, ‘ভালোবাসার চিহ্ন’ এঁকে, সবুজ ময়দানে কপাল ছুঁয়ে মনে রাখার মতো একটা উদযাপনে ডাবল সেঞ্চুরিটা স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিক।

২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। এর মধ্যে চারটিই বিদেশের মাটিতে। প্রিয় উইকেট মিরপুরে একটিও ছিল না। সেই অপূর্ণতা মুশফিক ঘুচলেন দ্বিশতক হাঁকিয়ে। ৪০৭ বলে পৌঁছেছেন দ্বিশতকে, ২১৯ রানের ইনিংসে মুশি চার মেরেছেন ১৮টি, ছক্কা একটি। ইতিহাস গড়া ইনিংসটা খেলার পথে মুশফিক সবচেয়ে বড় সঙ্গটা পেয়েছেন মুমিনুলের কাছে। তিনিও দ্বিশতকের আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম দিনেই ফিরে গেছেন ১৬১ রানে। কাল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য দুই জুটি গড়ে বাংলাদেশকে রানের চূড়ায় উঠিয়েছেন মুশি। ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা।

"