মোহাম্মদপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ গাড়িচাপায় নিহত ২

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে গাড়িচাপায় দুই কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে ওই সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় মোহাম্মদিয়া হোমসের সামনে একটি পিকআপকে তাড়া দিলে পালানোর সময় আরিফ (১৫) ও সুজন (১৭) নামে দুই কিশোরকে চাপা দিলে নিহত হন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই মুকুল রঞ্জন দেব জানান, গতকাল শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ওই এলাকার মোহাম্মদিয়া হোমসের সামনে একটি পিকআপে করে বেশকিছু তরুণ লোহার গেটের কাছে আসে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ওই পিকআপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাড়া দিলে পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত ঘোরাতে গেলে তার নিচে চাপা পড়েন আরিফ ও সুজন। আরিফকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত দুই কিশোরের লাশ হাসপাতাল দুটির মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোহাম্মদপুরের ঢাকা হাউজিং, মেহেদিবাগ, গোল্ডেন স্টেট, মুনসুরাবাদ-১০, আদাবর-১৬, আদাবর-১০, শনিরবিল, শম্পা মার্কেট ও লোহার গেট এলাকায় সকালের এ সংঘর্ষে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। জানা যায়, সাদেক খানের মনোনয়ন কিনতে তার সমর্থকদের ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে জড়ো হতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের মনোনয়ন কেনার কথা ছিল। কিন্তু পথেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

আহত ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসু কমিশনারের ভাগনে আলী, ইদ্রিস, জাহাঙ্গীর ও জলিলের অবস্থা গুরুতর। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানেও হামলা চালানো হয়েছে। শাহচন্দ্রপুরি দোকান থেকে সাতটি এলইডি টিভি ও টাকা-পয়সা লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নানক এবারও এই আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানও মনোনয়ন চাইছেন এবার।

আদাবর থানার ওসি কাওসার আহমেদ জানান, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ঘটেছিল। তবে সামাল দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে, সংঘর্ষের বিষয়ে সাদেক খান সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের তুহিনের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়। আদাবর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম তুহিন সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ অস্বীকার করে তুহিন তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগের লেবাস নিয়ে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। অপরদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সংঘর্ষে আমার কোনো নেতাকর্মী ছিল না।

 

 

"