হাসপাতাল থেকে ফের কারাগারে খালেদা জিয়া

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক
ama ami

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নির্ধারিত কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মাহমুদুল কবীরের আদালতে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে শুনানি শেষ হয় দুপুর সোয়া ১টার দিকে। এদিকে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতর অস্থায়ী আদালতে নেওয়া হয়। বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে তাকে হাসপাতালের ৬১২ নম্বর কক্ষ থেকে বের করা হয়। পরে একটি কালো এসইউভিতে করে কারাগারের পথে রওনা দিয়ে ১১টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়া কারাগারের আদালতে পৌঁছেন। এ সময় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল তৎপর।

হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালে একটি গাড়িতে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক কারা কর্মকর্তা জানান। সকাল থেকেই বিএসএমএমইউয়ের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। একইভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের আশপাশও।

বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। তাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার এর আগে বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত আদালতে হতো। তবে গতকাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হওয়ার আগে গত বুধবার কারাগারে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসানোর আদেশ জারি হয়।

খালেদা ছাড়াও নাইকো দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর সাজা হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকে গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনা হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। এর মধ্যে আবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এত দিন বিএনপি প্রধান হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

"