অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ভারতে যান মনিকা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পর ‘উদ্ধার’ করা হয়েছে চট্টগ্রামের গানের শিক্ষিকা মনিকা বড়–য়া রাধাকে (৪৫)। অপহরণ নয়, নিজের ইচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন তিনি। কমলেশ কুমার মল্লিক (৩৫) নামে এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়ার পর মনিকা সেখানে তাকে বিয়েও করেন। মনিকা বড়–য়া রাধাকে উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিকা (৪৫) বড়ুয়া রাধার সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতের নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিকের সঙ্গে। পরিচয় প্রেমে রূপ নিলে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ইচ্ছায় ভারত গিয়েছিলেন মনিকা। তার ভারত যাওয়ার সবই মনিকার বোনরা জানতো। ভারত থেকে বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার। এমনকি বাড়িছাড়ার আগে দুই মেয়েকে বলেও যান মনিকা। এরপরও মনিকার বোন ও মেয়েরা তার খোঁজ পেতে মানববন্ধনও করেছেন। পুলিশকে তারা সহযোগিতা করলে অনেক আগেই উদ্ধার করা যেত।

আমেনা বেগম জানান, গত ১২ এপ্রিল শ্যামলী পরিবহনের গাড়িতে মনিকাকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্তে যান কমলেশ। পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে নিয়ে যান মনিকাকে। এরপর তারা কলকাতায় একটি মন্দিরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংসার পাতেন। মনিকা নাম বদলে নতুন নাম নেন- অনামিকা মল্লিক। স্বামীর সূত্রে স্থানীয় আধার কার্ডও পান তিনি। আমেনা বেগম আরো জানান, ব্যবসার কাজে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছেন কমলেশ। পরে গত ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে কমলেশের মাধ্যমে কৌশলে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে এনে গ্রেফতার করা হয় মনিকাকে। এরপর বুধবার রাতে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত গত ১২ এপ্রিল লালখান বাজারের হাইলেভেল রোডের বাসা থেকে গান শেখানোর জন্য বের হয়েছিলেন মনিকা। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ বিষয়ে গত ১৩ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ সন্দেহে মামলা করেন দেবাশীষ।

"